টেকনাফে সরকারী টয়লেট নির্মাণে ব্যবহ্রত হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী! – দৈনিক দেশেরকথা
শামসুল আলম শারেক
১৯ মে ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

টেকনাফে সরকারী টয়লেট নির্মাণে ব্যবহ্রত হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী!

কক্সবাজারের টেকনাফে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারী টয়লেট নির্মাণে ব্যবহ্রত হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনার পরেও নির্মাণকারী টিকাদার বৃদ্ধাঙ্গুলী ও অনেকটা দাম্ভিকতা দেখিয়ে অতি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে টয়লেট নির্মাণের বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরীর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।
সরেজমিনে পরিদর্শন করা দেখা গেছে,উপজেলার হ্নীলা এলাকায় গরীবের জন্য বরাদ্দকৃত টয়লেটের চাকা এবং ঢাকনা তৈরীর কাজ চলছে। যা গত ২দিন আগে কাজ শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছেন।
পরিদর্শনে দেখা গেছে, বালির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ী মাটি। নিম্নমানের কংকর ও অপর্যাপ্ত সিমেন্ট দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে চাকা ও ঢাকনা। এখানে মজার বিষয় হচ্ছে, জিআইতার বা লোহা দিয়ে ফ্রেম না করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকা গুলো বানানো হচ্ছে। নির্মাণকারী রাজমিস্ত্রী রোহিঙ্গা আবুল বশর জানান, লোহা বা জিআইতারের ফ্রেমের পরিবর্তে ঢালাই করার সময় নীচে একটা মাঝখানে একটা আর উপরে একটা করে লোহা বসিয়ে দিয়ে দিচ্ছি। আর চাকা বানানোর বক্সে ডালাই শেষে ডায়ার চতুর্পাশে ১ফুট করে ৬টি জিআইতার পেরেকের মত করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ওই রাজমিস্ত্রি আরো জানান, ফ্রেম তৈরী করে বক্সে বসিয়ে দিয়ে ঢালাই করাটা আসলেই কঠিন। তাড়াতাড়ি কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার স্বার্থে আমরা আমাদের মতো করে যাচ্ছি। কর্মস্থলের পাশে জিআইতারের দুটি ফ্রেম দেখে প্রশ্ন করা হলে রাজমিস্ত্রি বশর বলেন, ওইটা সাব আসলে স্যাম্পল দেখানোর জন্য রাখা হয়েছে।
এসময় কংকর মিক্সারে নিয়োজিত রোহিঙ্গা শ্রমিক মাহমুদ উল্লাহকে চাকা তৈরীর মিক্সার রেসিও সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারননি। এসময় দেখা যায়, বালির পরিবর্তে পাশে স্তুপ করা পাহাড়ী মাটি মিক্সার কাজে ব্যবহার করছেন শ্রমিক মাহমুদুল্লাহ। ওই সময় তাকে বালির পরিবর্তে মাটি কেন ব্যবহার করছেন প্রশ্ন করা হলে বলেন, এগুলো শেষ হয়ে গেলে মেইন মিস্ত্রিকে ভাল বালি আনতে বলবো।
রশিদুল্লাহ নামের অপর এক রোহিঙ্গা শ্রমিক জানান, আমরা এত্ত কিছু বুঝিনা। আমাদেরকে যেভাবে বানাতে বলা হয়েছে। আমরা ঠিক সেভাবেই বানাচ্ছি। নিম্নমানের সামগ্রীর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শ্রমিক রশিদুল্লাহ বলেন, কন্টান্টার যে ভাবেই নিয়ে আসছেন। আমরা ঠিক তা দিয়ে তৈরী করে দিচ্ছি।
ঠিকাদার কে বা কারা এসব তৈরী করছেন? বিষয়টি নিয়ে এক ধরণের গোলক ধাঁধাঁ চলেছে। মিস্ত্রি, মেইন মিস্ত্রি এবং অন্যান্য শ্রমিকরা স্পষ্ট কিছুই বলেন না। তবে মিস্ত্রি আবুল বশর বলেন, জাহাঙ্গীর নামের এক হেড মিস্ত্রি আছেন। তিনিই এসব দেখাশুনা করছেন। তখন জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি কেবল মিস্ত্রি জিয়াবুল নামের একজন সাইট পরিচালককে চিনি। তিনিই আমাদের দেখাশুনা করছেন। পরে ওই সাইট পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা তো এগুলো সাব কন্টাক্টরকে দিয়ে দিয়েছি। তারাই এখন চাকাসহ টয়লেটও বানাচ্ছেন। নিম্নমানের কাজের বিষয়ে তিনিও নাকি বলতে পারবেন না। পরে তিনি হোয়াইক্যং কাঞ্জরপাড়া এলাকার ফরিদ নামের জনৈক এক লোকের কথা বলেন। যিনি চাকাসহ টয়লেট সামগ্রী সরবরাহ করছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত টয়লেটের সামগ্রী সরবরাহকারী তথা সাব কন্টাক্টর ফরিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য এবং দাম্ভিকতার সাথে বলেন, টয়লেট নির্মাণ সামগ্রী তৈরীর কাজ দেখার দায়িত্ব পেয়েছেন নাকি? জিআইতার/লোহার ফ্রেম ছাড়া চাকা বানানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মিস্ত্রিরা হয়তোবা ভুল করছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা মো: ফারুক হোসাইন জানান, আজও আমাদের লোক কাজ পরিদর্শন করেছেন। যথাযথ নিয়মেই কাজ করতে হবে। এখানে হেরফের করার সুযোগ নেই। এদিকে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও জিআই/লোহার ফ্রেম না বানিয়ে চাকা তৈরীর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এভাবে তো হতে পারেনা। ঠিকাদারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্টই বলেছেন, কাঞ্জরপাড়া এলাকার ফরিদ নামের কেউ আমাদের ঠিকাদার নেই। রণিই আমাদের মেইন ঠিকাদার।
এবিষয়ে জানতে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো: নছরুল্লাহর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। মোবাইল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, টেকনাফে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ানে ১হাজার টয়লেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা বিনামুলে বিতরণযোগ্য। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ইতিমধ্যে উল্লেখিত টয়লেটের সুবিধাভোগীদের তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রায় ৮হাজার চাকা ও ২হাজার ঢাকনা তৈরীর কাজ পুরোদমে চলছে। তাড়াহুড়ো করে; চাকা ও ঢাকনা তৈরী করতে গিয়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বা সরবরাহকারী প্রতিষ্টান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের গুরুতর অভিযোগ। গুণগতমান নিশ্চিতের স্বার্থে অতিদ্রুত সময়ে নির্মাণকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সুবিধাভোগী লোকজন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রবাসীদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস কুয়েতের নারী সাংবাদিকের বর্ষসেরা সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণ

বাবরকে ফিরিয়েই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান চাপে

জমিজমা সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফুটপাতে হকারদের জায়গা বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন, নীতিমালা বৈধ কি না জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল

শার্শায় তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত

নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট বাজারে

সামরিক বহর ও মিসাইল প্রদর্শনের মধ্যেই তেহরানে এক হাজার দম্পতির গণবিবাহ

ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

টেকনাফে সরকারী টয়লেট নির্মাণে ব্যবহ্রত হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী!

টুংটাং শব্দ পেরিয়ে ফুটবলের নায়ক হওয়ার সপ্ন দেব মন্ডলের।

১০

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে বন্দুক হামলা, দুই সন্দেহভাজনসহ নিহত ৫

১১

ট্রাম্পের ঘোষণা আসতেই তেলের বাজারে স্বস্তি, কমল দাম

১২

আত্রাইয়ে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

১৩

ভেড়ামারায় ভূমিসেবা মেলার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

১৪

‎সিরাজগঞ্জে দুর্নীতি বিরোধী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

১৫

নান্দাইলে একরাতে ৮ দোকানে ভয়ংকর চুরি, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

১৬

ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ব্রি ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

১৭

চাঁদ দেখা গেছে, ২৮ মে সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা

১৮

আত্রাইয়ে পার্টনার কংগ্রেস- ২০২৬ অনুষ্ঠিত

১৯

মিড ডে মিলে অনিয়ম ঠেকাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ গঠনের নির্দেশ

২০