ভারতের হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলায় ঘটে গেল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা—একই নারীকে বিয়ে করলেন দুই ভাই। ঐতিহ্যবাহী হট্টি সম্প্রদায়ের রীতিতে তিনদিন ধরে উৎসবের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এই বিয়ে। কনে সুনীতা চৌহান নিজেই জানিয়েছেন, তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বেচ্ছায় এবং এতে তিনি গর্বিত।
পাত্র দুই ভাই—প্রদীপ ও কপিল নেগি। স্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে পিটিআই জানিয়েছে, শত শত মানুষের উপস্থিতিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই বহুগামী বিয়ে, যা হট্টি উপজাতির পুরোনো প্রথা “জোড়িদারা” অনুযায়ী বৈধ ও সামাজিকভাবে স্বীকৃত।
সুনীতা চৌহান জানান, “আমি প্রথাটি সম্পর্কে জানতাম এবং নিজের ইচ্ছাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমাদের সম্পর্কের প্রতি আমার সম্মান।”
প্রদীপ বলেন, “এই বিয়ে নিয়ে আমরা গর্বিত। এটা আমরা গোপনে নয়, সামাজিক স্বীকৃতিতেই করেছি। পরিবার থেকেও সম্মতি ছিল।”
প্রদীপ বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত, আর কপিল বিদেশে কর্মরত। কপিল জানান, “আমি দূরে থাকলেও আমাদের স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই বিয়ের উৎসব শুরু হয় ১২ জুলাই এবং চলে টানা তিন দিন। কনে সুনীতা কুনহাট গ্রামের বাসিন্দা।
২০২২ সালে হট্টি সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। হিমাচল রাজ্যের রাজস্ব আইনে ‘জোড়িদারা’ প্রথা এখনো বৈধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি ভাগাভাগি ঠেকানো, পারিবারিক ঐক্য বজায় রাখা এবং পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজের সুবিধার্থেই এই প্রথার উদ্ভব।
হট্টি সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কুন্দন সিং শাস্ত্রী বলেন, “এই প্রথার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবারে ঐক্য বজায় রাখা ও কৃষিজমি খণ্ডিত হওয়া ঠেকানো। এটি হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্য।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু বাদনা গ্রামেই গত ছয় বছরে এমন পাঁচটি বিয়ের ঘটনা ঘটেছে। যদিও আগে এসব বিয়ে ছিল সাধারণ ঘটনা, এখন তা কিছুটা কমে এলেও সামাজিকভাবে এখনো গৃহীত।
এই ব্যতিক্রমী বিয়ে আরও একবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক রীতিনীতিগুলো।
মন্তব্য করুন