স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির জন্য আরও সময় নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে আসন্ন দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এতে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক অচলাবস্থা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে এনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা জরুরি।
বৈঠকে কয়েকজন নেতা দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিলেও অন্যরা প্রস্তুতির জন্য আরও সময় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার দলীয় প্রতীক না থাকায় একই পদে বিএনপির একাধিক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়া এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বিরোধ আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।
বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী ও ইসমাইল জবিউল্লাহ জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক অনলাইন বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। ঢাকা বিভাগের নেতাদের সঙ্গে শিগগিরই পৃথক বৈঠক করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কয়েকজন নেতা নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের দায়িত্ব ও এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে, আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে দেশের কোথাও যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করবেন।
রিজভী বলেন, পূজার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ জন্য ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশের স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের সম্ভাব্য অপচেষ্টা সম্পর্কে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও দলীয় নেতাকর্মীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।
বৈঠকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান রিজভী।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।