কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার ব্যাংক ঋণের মামলায় আমিনুল হক (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গুলশান থানার ফরওয়ার্ডিং করা দুটি গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত রাতে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
ঢাকা জেলার ষষ্ঠ জেলা যুগ্ম দায়রা জজ আদালত ২০২২ সালে দায়ের করা দুটি মামলায় (মামলা নং- ১১৫৩৬/১১৫৩৬) আমিনুল হকের বিরুদ্ধে দুই বছরের সাজাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
গ্রেফতারকৃত আমিনুল হক কটিয়াদী উপজেলার ভাট্টা গ্রামের মো. রমিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের মালিকানাধীন ‘গচিহাটা অ্যাকুয়াকালচার ফার্মস লিমিটেড’-এর ম্যানেজারের দায়িত্বে কর্মরত আছেন।
গ্রেফতারের পর মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল হক সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেন,
"আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নিইনি। এই ঋণ হয়তো ‘গচিহাটা অ্যাকুয়াকালচার ফার্মস লিমিটেড’-এর নামে নেওয়া হতে পারে। আমি কেবল সেখানে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতাম।"
আমিনুল হকের আত্মীয়-স্বজনদের অভিযোগ, এটি একটি সুনিপুণ প্রতারণা। তাদের ধারণা, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগে ঋণখেলাপি হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে কোম্পানির স্বত্বাধিকারী সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান রঞ্জন কৌশলে তার নিজের নামের ব্যাংক ঋণগুলো ম্যানেজার আমিনুল হকের নামে ট্রান্সফার (স্থানান্তর) করিয়ে নেন। এ বিষয়ে আমিনুল হককে কোনো স্পষ্ট বা সঠিক ধারণা দেওয়া হয়নি। সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে স্বজনদের দাবি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ‘গচিহাটা অ্যাকুয়াকালচার ফার্মস লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামান রঞ্জন জানান, এই মামলার বিষয়ে তিনি পূর্বে কিছুই জানতেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে উল্লেখ করেন।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
"গুলশান থানা থেকে ফরওয়ার্ডিং করা দুটি গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আমিনুল হককে আটক করা হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।"
নিজ নামে ঋণ না নিয়েও কেবল চাকরি করার কারণে সাড়ে তিন কোটি টাকার দায় ও দুই বছরের সাজার মুখে পড়া আমিনুল হকের এই গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।