নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শিশুদের প্রতি ক্ষতিকর চর্চা প্রথা প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জ এপি,ওয়ার্ল্ড ভিশনের আয়োজনে বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি হাঁড়িবেচা পাড়া গ্রামে এসডিএফ অফিসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিশু কিশোর,কিশোরী,পিতা-মাতা ও কমিউনিটির জনগণ অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রধান অতিথি বক্তব্য দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহজাদী। আরো বক্তব্য দেন এপির ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার স্বপন কিসপট্টা প্রমুখ। এসময় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহজাদী বলেন, মায়ের পেট থেকে শিশুদের যত্ন নিতে হবে। ৫ বছর বয়সে শিশুদের মানসিক বিকাশ ঘটে।
এসময় শিশুদের সাথে ভাল কথা বার্তা বলতে হবে এবং ভাল কিছু শেখাতে হবে। আমরা অনেক সময় শিশুদের ভাল-মন্দ না শিখিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলি। শিশুদের সাথে এরকম আচরণ করা যাবেনা। কারণ শিশুর সামগ্রিক বিকাশে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গভীর ও অপরিসীম।পরিবার হলো শিশুর প্রথম পাঠশালা।তাই এখান থেকেই শিশুর শারীরিক, মানসিক,আবেগীয়, সামাজিক ও নৈতিক গুণাবলীর ভিত তৈরি হয়।এতে করে একটি ভালোবাসাপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ শিশুর মানসিক বৃদ্ধি ও আত্মবিশ্বাসের জন্য অপরিহার্য। অপরদিকে পরিবার থেকে পাওয়া স্নেহ ও সমর্থন শিশুর মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে।বিশেষ করে শিশুরা অনুকরণপ্রিয়।পরিবারের সদস্যদের আচরণ,পারস্পরিক সম্পর্ক, এবং কথা বলার ধরন দেখে শিশুরা সমাজ ও সংস্কৃতির রীতিনীতি শেখে। সততা, বড়দের প্রতি সম্মান,সহানুভূতি এবং ন্যায়-অন্যায়ের প্রাথমিক পাঠ পরিবার থেকেই আসে।
পরিশেষে শিশুর অধিকার সংরক্ষণ, বাল্যবিবাহ,শিশুশ্রম, সহিংসতা এবং অন্যান্য ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়াও বক্তাগণ শিশুদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা, বৈষম্য ও নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের ওপর জোর দেন।পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা শিশুদের কল্যাণে সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা বন্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।