প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি জাতির অগ্রগতি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; বরং সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার ওপরই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি নির্ভরশীল। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে মানসম্মত চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ভূমিকা অপরিসীম।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘পিএমও বাংলাদেশ’-এ প্রকাশিত এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দীর্ঘ এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক চিকিৎসক তৈরি করেছে, যারা দেশে ও বিদেশে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং মানবসেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণার ধারাবাহিক উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, জাতীয় সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চা এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। এসব ক্ষেত্রে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ভবিষ্যতেও নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ তার গৌরবময় ঐতিহ্য ধারণ করে আগামী দিনেও বিশ্বমানের চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্য নেতৃত্ব তৈরি করবে এবং দেশের স্বাস্থ্য গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
তিনি আরও বলেন, ৮০ বছরের অভিজ্ঞতা ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রেরণাকে ধারণ করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ জ্ঞান, মানবিকতা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবায় উৎকর্ষের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং জাতীয় সংকটকালে রোগীসেবায় আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।