নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে মনসা গানের আসরে সাপের ছোবলে মৃত্যু সর্পদেবীর চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা বিজয়(২২)কে ঝাড়ফুঁকের কথিত চিকিৎসায় জীবিত করার জন্য ব্রাহ্মণের চলছে প্রাণপণ চেষ্টা।সৎকার না করে বাড়ির উঠোন মন্দিরের সামনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়সহ দূর দূরান্তের উৎসুক জনতার ঢল নামে এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।অপর দিকে নিহতের পরিবারের লোকজন মূর্ছা যাওয়াসহ স্বজনের কান্নার আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ অভিনেতার মৃত্যু হয়।উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়ভিটা বড়ডুমরিয়া সর্দার পাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।মৃত্যু অভিনেতা ওই গ্রামের বিপুল চন্দ্র রায়ের ছেলে ও পেশায় একজন মনসা গানের আসরে সর্প দেবীর অভিনেতা ছিলেন।নিহত অভিনেতার স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়,গত বৃহস্পতিবার সকালে জৈনিক এক প্রতিবেশীর মাছ শিকারের চায়না দুয়ারী জালে একটি বিষধর গোখরা সাপ আটক হয়।
বিজয় ওই সাপ উদ্ধার করে জলঢাকা বিন্নাকুড়ি গ্রামে তিন দিনব্যাপী মনসা গানের আসর নিয়ে যায়। এ আসরে তিনি সর্পদেবীর চরিত্রে অভিনয় করার সময় ওই বিষধর সাপ হাতে ছোবল দিলে গুরুতর আহত হন।পরে অবস্থার বিগতিক হলে গানের আসরের সহপাঠীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে ৮দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।শুক্রবার সকালে তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এসে মন্দিরের সামনে সৎকারের জন্য নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মন্দিরের উঠোনের বট গাছের গর্ত থেকে একটি সাপ উঁকি দেয়। এ সাপ দেখে সৎকারে অংশগ্রহণকারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস মতে সর্ব দেবী হাজির হয়েছে তাকে বিষমুক্ত করে জীবিত করে তুলবে।এ থেকে শুরু হয় ব্রাহ্মণের নানা ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সুস্থ করার প্রাণপণ চেষ্টা।কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব আশা গুড়েবালি।পরিশেষে মর দেহ দাহ করা হয়।
মৃত্যু অভিনেতার স্বজন খোকা রায় বলেন, ৮দিন চিকিৎসা শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিজয়কে মৃত্যু ঘোষণা করেছেন।তবে আমরা আশা ছাড়িনি।সর্পদেবী আগমনের পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছেয় অলৌকিক কিছু ঘটতে পারে,এই বিশ্বাস থেকেই আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ব্রাহ্মণের ঝাড়ফুক দেখতে আসা আনিসুল ইসলাম বলেন, সকালে শুনেছি সাপের কামড়ে বিজয় নামে এক যুবক মারা গেছে। তবে পরে শুনতে পাই সর্প দেবীর আগমনে মৃত্যুদেহ সৎকার না করে সর্পদেবীর আগমনে মন্দিরের সামনে ঝাঁড়ফুক করা হচ্ছে জীবিত করার জন্য। তারপর এই ঘটনা নিজ চোখে দেখতে এসেছি।কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল গফুর জানান, এ ঘটনায় ইউডি মামলা হয়েছে। তার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশের দাহ্য কার্য চলছে।