আত্রাইয়ে একযুগ ধরে গাছের সাথে শিকলে বাঁধা বকুলের জীবন

দে
রুহুল আমিন
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২
আত্রাইয়ে একযুগ ধরে গাছের সাথে শিকলে বাঁধা বকুলের জীবন

নওগাঁর আত্রাইয়ে বকুল শাখিদার (১৮) নামে এক মানসিক প্রতিবন্দিকে ১২ বছর ধরে গাছের সাথে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। হতদরিদ্র পরিবার বকুল শাখিদারের চিকিৎসা করাতে না পেরে চোখের সামনে এমন মানবেতর জীবন যাপন দেখতে হচ্ছে তাদের। বকুল শাখিদার উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বামনি গ্রামের আতিকুল শাখিদারের ছেলে।

বকুল শাখিদারের মা ববিতা বিবি জানান,বকুল শাখিদার আমার ১ম সন্তান। বকুল প্রসব হওয়ার সময় সমস্যা হচ্ছিল। সে সময় নৌকাযোগে আত্রাই হাসপাতালে নিয়ে যাবার সময় নৌকাতেই জন্মনেয় বকুল। এরপর আত্রাই হাসপাতালে পৌছায়। কিন্তু বকুল যখন একটু একটু করে বেড়ে ওঠছিল তখন তার চলনে কিছুটা অস্বাভাবিকতা নজরে আসে। পরে রাজশাহী শিশু ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানান,প্রসবের সময় শিশুর মাথায় অতিরিক্ত চাপ লাগার কারনে এমন অবস্থা হয়েছে। তবে ৬বছর ধরে চিকিৎসা করালে ভাল হয়ে যাবে। এর মধ্যে ধার-দেনা এবং এনজিও থেকে টাকা তুলে ৩বছর চিকিৎসা করানোর পর টাকার অভাবে আর চিকিৎসা করাতে পারেননি। ফলে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে ৬বছর বয়স থেকেই বাড়ীর আসবাবপত্র ভাংচুর এবং মানুষের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে। অনেক সময় লোকজন বকুলকে মারধরও করে। বাধ্য হয়ে রাত পোহালেই সড়কের পাশে আম গাছের সাথে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। সেখানেই সকাল এবং দুপুরের খাবার দেই। এই মা অশ্রুভেজা চোখে বলেন,রোদ-বৃষ্টি আর শীত পুরোটায় সন্তানের মাথার উপর দিয়ে বয়ে যায়। বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে ঘরের মধ্য থেকে অপলোক দৃষ্টিতে দেখতে হয় আর অশ্রু ঝরাতে হয়। মা ববিতা বিবি আরো জানান,রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পারিয়ে দেই। সকালে ঘুম ভাঙ্গার আগেই পায়ে শিকল পড়াতে হয়। তাছাড়া দৌড়ে ছুটে চলে যায়।

মা ববিতা বিবি জানান,বাড়ীর মাত্র আড়াই শতক জায়গা রয়েছে। বকুলের বাবা অন্যের বাড়ীতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার পরিচালনা করেন। বর্তমানে তাদের সংসারে বকুলসহ তিন সন্তান রয়েছে। দিনমজুরের কাজ করে যে টাকা আসে তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। ফলে বকুলের আর চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়না। চিকিৎসকের বরাদ দিয়ে তিনি আরো বলেন,এখনো যদি সুষ্ঠু চিকিৎসা করানো হয় তাহলে বকুল সুস্থ্য হয়ে ওঠবে। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছেনা। ছেলের এমন মানবেতর এবং শিকলমুক্ত জীবন পেতে সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন এই মা।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আবেদন পেলে খোঁজ খবর নিয়ে চিকিৎসার সু-ব্যবস্থা করা হবে।

রুহুল আমিন 

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য