গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কুশল নাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যে বিদ্যালয়ে শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বিদ্যালয়েই এখন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন। জরাজীর্ণ ও মেরামতের অযোগ্য ভবন, সীমানাপ্রাচীরের অভাব আর দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরী না থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মুস্তাক আহমেদ জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দেয়াল ও ছাদের নাজুক অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পুরোনো ভবনটি এখন আর মেরামত করেও ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিদিন শিশুদের পাঠদান করানো নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই শিক্ষকদের।
শুধু ভবন নয়, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়েই চলে গেছে ব্যস্ত সড়ক। ফলে বিরতির সময় কিংবা খেলাধুলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত শিশুরা সড়কে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে কোনো দপ্তরী বা অফিস সহায়ক না থাকায় বেড়েছে ভোগান্তি। বিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, দাপ্তরিক কার্যক্রম ও সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। ফলে পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে তাঁদের।
এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে একত্রিত হয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি জরুরি দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের দাবিগুলো হলো—
১. নতুন ভবন নির্মাণ: ঝুঁকিপূর্ণ ও মেরামতের অযোগ্য পুরোনো ভবন অপসারণ করে দ্রুত একটি আধুনিক ও নিরাপদ নতুন ভবন নির্মাণ।
২. সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ: ব্যস্ত সড়ক থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতে বিদ্যালয়ের চারপাশে দ্রুত মজবুত সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ।
৩. দপ্তরী নিয়োগ: বিদ্যালয়ের পরিচর্যা, দাপ্তরিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একজন স্থায়ী দপ্তরী নিয়োগ।
শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। অথচ একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যদি শিশুরা নিরাপদে পাঠদান গ্রহণের পরিবেশ না পায়, তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।