গুজবে কান দেবেন না, নির্ভয়ে পূজা উদ্‌যাপন করুন-ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবি সেক্টর কমান্ডার

দে
আসিফ জামান
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৬
গুজবে কান দেবেন না, নির্ভয়ে পূজা উদ্‌যাপন করুন-ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবি সেক্টর কমান্ডার


শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার এবং অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে মাঠে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের শান্তিনগর এলাকার শ্রী শ্রী শান্তিনগর পূজা মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সুরুজ মিয়া।


বিজিবি সেক্টর কমান্ডার বলেন, দুর্গাপূজা দেশের অন্যতম বৃহৎ উৎসব। এই উৎসব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতি চলে আসছে এবং বিজিবি সবসময় তা সমুন্নত রাখতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এসেছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।


মণ্ডপের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিজিবি সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি শহরভিত্তিক পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ড্রোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে সেক্টর কমান্ডার বলেন, ‘পূজা মণ্ডপ কমিটির নেতাদের সঙ্গে আমাদের সরাসরি (ওয়ান-টু-ওয়ান) যোগাযোগ রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে বা প্রয়োজনে তাদের দ্রুত বিজিবি কিংবা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি মণ্ডপকে সব ধরনের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’


গুজব ও অপপ্রচার রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কর্নেল সুরুজ মিয়া বলেন, ‘কোনো রকম গুজবে কান দেবেন না। কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। কোথাও সন্দেহজনক কিছু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করুন। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সেক্টরের আওতাধীন এলাকার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও সেক্টরের অধীনে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী—এই তিন জেলায় বিজিবির ৩টি ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করছে। এই তিন জেলায় মোট ৬২টি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) রয়েছে। সীমান্ত থেকে ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোতে বিজিবি এককভাবে কিংবা অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে।


তিনি আরও জানান, কেবল ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্ত এলাকাতেই বিজিবির আওতাধীন ৬৬টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর বাইরে ঠাকুরগাঁও শহর বা সদরের ৩টি মণ্ডপে বিশেষভাবে নজরদারি রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।


পরিদর্শনকালে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য