মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কালোটাকা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর যুক্তি দেখিয়ে দেশে প্রচলিত ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, যথাযথ রিজার্ভ বা ব্যাকআপের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে অর্থের সরবরাহ বাড়ানো হলে মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনেও অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধির প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন নোটিশদাতা।
মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে থাকা জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের ওপর অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবের কথা বলা হয়েছে।
এক হাজার টাকার নোট নিয়েও নোটিশে বেশ কয়েকটি দাবি করা হয়েছে। নোটিশদাতার ভাষ্য, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ছোট অঙ্কের লেনদেনে উচ্চমূল্যের নোটের প্রয়োজন তুলনামূলক কম। এ ধরনের নোট অবৈধ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে সংরক্ষণ সহজ করতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।
উচ্চমূল্যের নোট প্রত্যাহারের উদাহরণ হিসেবে ভারতের দুই হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আলোকে বাংলাদেশে এক হাজার টাকার নোট বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ সরবরাহসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং এক হাজার টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলেও আইনি নোটিশে জানানো হয়েছে।