সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ধূসর চাদরে মোড়ানো এক শিশুকে কোলে নিয়ে ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে ছুটে চলা এক যুবকের ছবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আলোচনার ঝড়। ছবিটি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে আবেগ, শোক এবং নানা ধরনের অনুমান ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই ছবির পেছনের আসল ঘটনা সামনে এসেছে অনুসন্ধানে।
বিবিসি বাংলার তথ্য অনুযায়ী, ছবিতে থাকা শিশুটির নাম মো. সাদমান। কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা মো. সজীব ও আফরিন মীম দম্পতির একমাত্র সন্তান সাদমান টানা ১০ দিন হামের সঙ্গে লড়াই করার পর গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।
ছবিতে শিশুটিকে কোলে নিয়ে যাকে দেখা গেছে, তিনি তার বাবা নন। তার নাম রেদোয়ান আহমেদ রাফি। তিনি সাদমানের মায়ের খালাতো বোনের জামাতা। সাদমানের মৃত্যুর মুহূর্তে তার বাবা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন বলে দ্রুত শিশুটিকে নিয়ে সিএনজি খুঁজতে বাইরে বেরিয়ে আসেন রাফি। সেই আবেগঘন মুহূর্তেই ধারণ করা হয় ছবিটি, যা পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সাদমানের বাবা সজীব জানান, প্রথমে ১২ এপ্রিল শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ১৬ এপ্রিল তাকে মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে রবিবার তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান।
ভাইরাল ছবিটিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি করেন, অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে মরদেহ বহন করা হচ্ছিল। তবে পরিবার সেই দাবি নাকচ করে জানায়, পরিস্থিতির চরম আবেগ ও তাড়াহুড়ার কারণেই দ্রুত সিএনজিতে করে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাদমানের মৃত্যু দেশে চলমান হাম বা অনুরূপ উপসর্গজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবকে আরও একবার সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যখাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএনসিসি হাসপাতালসহ একাধিক সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ইউনিট চালু করা হয়েছে।
অন্যদিকে আজিমপুর গোরস্তানে সন্তানকে দাফনের পর সাদমানের বাবা-মায়ের কান্নাভেজা মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নতুন করে দেশজুড়ে শোক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।