দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর Johannesburg-এর একটি বস্তি এলাকায় ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। হামলার পর থেকে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে জোহানেসবার্গের Cleveland এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, একটি সাদা রঙের টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়িতে করে ১০ জনের বেশি সন্দেহভাজন হামলাকারী একটি পেট্রল স্টেশনের কাছে এসে পৌঁছায়। পরে তারা বস্তির দুটি প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
হামলার পরপরই হামলাকারীরা একই গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে চলমান গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই আটজন পুরুষ ও তিনজন নারী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন পুরুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ অন্তত ৯ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিশ্বে হত্যাকাণ্ডের উচ্চহারের দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যতম। দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। বিশেষ করে বস্তি ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে গ্যাং সহিংসতা, মাদক ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এর আগেও গত বছর জোহানেসবার্গের একটি ট্যাভার্নে সংঘটিত গণগুলিবর্ষণের ঘটনায় নয়জন নিহত হয়েছিলেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশে বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি সহিংস অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।