মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাময়িকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা স্থগিত করেছে ইরান ও ইসরায়েল। তবে লেবাননকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে উভয় পক্ষ।
ইরানের সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ড জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনার পর আপাতত আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই ছিল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রথম সরাসরি সামরিক সংঘাত।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি ‘গুলি ছোড়া বন্ধ করুন’ বলে মন্তব্য করেন এবং চলমান উত্তেজনা যেন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন।
পরবর্তীতে ট্রাম্প জানান, নতুন একটি যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা খুবই কাছাকাছি বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরায়েল পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালায়। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। যদিও ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-কে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তারপরও হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে লেবাননকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছে।