নির্বাচন ও ভোটার তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মারা গেলে তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংক্রান্ত একটি নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসির উপসচিব রাশেদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নীতিমালায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনা, হামলা কিংবা অসুস্থতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য বিভিন্ন মাত্রার আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ বা ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুর্ঘটনা কিংবা হামলার শিকার হয়ে মারা গেলে তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে ৪ লাখ টাকা, গুরুতর আহত হয়ে সাময়িক অক্ষম হলে ২ লাখ টাকা এবং সাধারণভাবে আহত হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া যাবে।
এছাড়া দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আকস্মিক অসুস্থতা বা গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রেও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যু হলে ৬ লাখ টাকা, গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্থায়ী অক্ষমতায় আক্রান্ত হলে ৩ লাখ টাকা এবং সাময়িক অসুস্থতার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা এবং সাধারণ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করা হবে।
অনুদান পাওয়ার জন্য আহত ব্যক্তি বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে আবেদন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে এ ধরনের সহায়তা প্রদানের বিষয়ে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত কোনো নীতিমালা ছিল না। নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ায় অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অর্থ বণ্টন নিয়ে সম্ভাব্য জটিলতাও কমে আসবে।