বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ বর্তমানে একটি স্বীকৃত ও অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল Waker-Uz-Zaman। তিনি বলেন, জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে ঢাকার সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান জানান, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার ২১২ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩ হাজার ৬০৮ জন, নৌবাহিনীর ৩০২ জন, বিমানবাহিনীর ২৬৭ জন এবং পুলিশের ৩৫ জন সদস্য রয়েছেন। তারা নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করছেন।
নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারী শান্তিরক্ষীরাও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ৩ হাজার ৯০৫ জন নারী সদস্য সফলভাবে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ২৯৪ জন নারী শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সংঘাতের ধরন, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শান্তিরক্ষীদের দায়িত্বও আরও জটিল হয়ে উঠছে। তবে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা উন্নত প্রশিক্ষণ, নৈতিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, দেশের শান্তিরক্ষীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের এই অবদান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।