হামের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে সরকারের কোনো গাফিলতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, গ্যাভি, ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বের ইতিহাসে এত কম সময়ে এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য বিপুল পরিমাণ টিকা এত দ্রুত সংগ্রহ করতে আর কোনো দেশ সক্ষম হয়নি, যা বাংলাদেশ করেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার একটি ভেন্টিলেটরও রেখে যায়নি এবং হাম প্রতিরোধের টিকাও মজুত ছিল না। বর্তমান সরকার শূন্য অবস্থা থেকেই কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আরও ১০টি জেলায় নতুন আইসিইউ ইউনিট চালু করা হবে। প্রতিটি জেলায় ১২টি করে ভেন্টিলেটর এবং ১২টি করে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে গুরুতর রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, আইসিডিডিআরবি’র চিকিৎসক ডা. তাহমিদ শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার জন্য নতুন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। ফুসফুস ঠিকভাবে কাজ না করলে অক্সিজেন সরবরাহে সহায়তাকারী এই পদ্ধতিও শিশুদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, হাম আক্রান্তদের দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চিকিৎসাই দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে তিনি পুষ্টির অভাবকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, শিশুদের বছরে দুইবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ২০২৪ সালের শেষ দিকে মাত্র একবার ক্যাপসুল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে কোনো ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনই পরিচালিত হয়নি।
তিনি জানান, আগামী ১০ জুনের মধ্যে ইউনিসেফ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন এ পাওয়া যাবে। এরপর দেশজুড়ে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন চালানো হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মায়েদের পুষ্টিহীনতা, শিশুদের পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়া এবং বুকের দুধ কম খাওয়ানোর কারণে অনেক শিশু ঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অনেক মা নবজাতককে দ্রুত বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন না। এসব কারণেই শিশুদের মধ্যে হাম আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন