গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় রাস্তার মোড়ে স্থাপিত পিলারের (খুঁটি) কারণে সৃষ্ট এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আরিয়ান (৮) নামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সকালে উপজেলার কেওয়া পূর্ব খণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আরিয়ান দিনাজপুর সদর উপজেলার মধ্যে বারোবালো গ্রামের সজল মিয়ার একমাত্র ছেলে। সে স্থানীয় কেওয়া পূর্ব খণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। বাবার কর্মসূত্রে তারা শ্রীপুরে বসবাস করছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশের সড়কে একটি যানবাহন পেছনের দিকে (রিভার্স) নেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত আরিয়ানকে চাপা দেয়। চালক গাড়িটি ঘোরানোর সময় শিশুটি পেছনে থাকলেও তিনি তা খেয়াল করেননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাস্তার মোড়ে একটি স্থায়ী পিলার থাকায় শিশুটি প্রাণ বাঁচানোর জন্য সরে যাওয়ার জায়গা পায়নি। পিলারের সাথে আটকে গিয়ে সে গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোক ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে স্থানে আরিয়ানের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে ইতিপূর্বেও আরও দুটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রাস্তার মোড়ে জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তির স্থাপন করা একটি পিলারের কারণেই এই মোড়টি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
রাস্তার এই মোড়ে পিলারটি না থাকলে ছেলেটি অনায়াসেই সরে যেতে পারতো। প্রভাবশালীরা নিয়ম না মেনে রাস্তার ওপর এই খুঁটি স্থাপন করায় এটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই পিলার অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।”
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আরিয়ানের বাবা-মা এখন দিশেহারা। আরিয়ানের অকাল মৃত্যুতে সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন:
আরিয়ান অত্যন্ত শান্ত ও মেধাবী ছিল। বিদ্যালয়ের ঠিক পাশেই এমন অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়া আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”
ঘটনার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয়রা ঘাতক যানটি শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় পিলারের অব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, আরিয়ানের মতো আর কাউকে যেন এভাবে প্রাণ দিতে না হয়, সেজন্য দ্রুত ওই পিলার স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।
শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি শব্দ করেন, এবং শিশুটির লাশ থানায় হস্তান্তর করেন এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়াধীন চলমান।