খুলনায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাসের আত্মহত্যার ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কর্মস্থলে অস্ত্রাগারের দায়িত্ব পালনকালে নিজের নামে ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। তার মৃত্যু ঘিরে পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয়েছে গভীর শোকের পাশাপাশি অসংখ্য প্রশ্ন, যার উত্তর এখনো অজানা।
ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সম্রাট বিশ্বাসের মরদেহ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামের নিজ বাড়িতে আনা হয়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা বারবার তাকে ডাকলেও আর কোনো সাড়া মেলেনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগ দেন সম্রাট। চাকরির সময়ই সহকর্মী এক নারী কনস্টেবলের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে বিয়েতে গড়ায়। তবে বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদ চলছিল বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিকভাবে কিছুদিন ধরে চরম হতাশায় ভুগছিলেন সম্রাট। দাম্পত্য কলহই তার আত্মহত্যার প্রধান কারণ হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো রয়েছে ধোঁয়াশা, যা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা জানান, সম্রাট ছিলেন শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একজন মানুষ। কারও সঙ্গে তার বড় ধরনের বিরোধ ছিল না বলেও দাবি তাদের। তাই হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে সবাই বিস্মিত।
এদিকে, সম্রাটের মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একমাত্র সন্তানের এমন পরিণতিতে মা-বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। পুরো এলাকায় এখন শুধুই এক প্রশ্ন—কী ছিল সেই অদৃশ্য যন্ত্রণা, যার কারণে থেমে গেল সম্রাটের জীবনরেখা।