কুমিল্লার লাকসামে ঘাঘুর খালের ওপর নির্মিত একটি কার্লভাটের নিচে স্থায়ীভাবে ইটের গাঁথুনী দিয়ে তৈরি বাঁধটি শনিবার (১৮ এপ্রিল) অপসারণ করলেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) সংসদীয় আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম। এতে জনমনে স্বস্তি দেখা দেয়।
এদিন দুপুর উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের নাড়িদিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘুর খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অবৈধভাবে নির্মিত এই বাঁধটি অপসারণ করেন।
এসময় লাকসাম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মজির আহমেদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক মো. শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন মুশু, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসন এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের ব্যক্তিগত সহকারী সুজন সাহা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের নাড়িদিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘুর খাল পরিদর্শনে যান কুমিল্লা-৯ আসনের নব-নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম। এ সময় স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি মাছ ধরার লোভে খালের ওপর নির্মিত কার্লভাটের নিচে ইটের গাঁথুনী দিয়ে অবৈধভাবে একটি বাঁধ নির্মাণ করে। এতে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে কমপক্ষে ৫০০টি পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয় এবং গত বন্যায় প্রায় ১২০ হেক্টর কৃষিজমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। ভবিষ্যতেও এমন ক্ষতির আশঙ্কার কথা সংসদ সদস্যের নিকট তুলে ধরেন এলাকাবাসী।
জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সমস্যার বাস্তবচিত্র দেখেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে একটি এক্সেভেটর (খননযন্ত্র) এনে খালের ভেতর নির্মিত অবৈধ বাঁধটি আপসারণ করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন এবং নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বাঁধটি অপসারণ করেন। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার সঞ্চারিত হয়।
এলাকাবাসী এমপি’র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে তারা মুক্তি পেলেন এবং সেচ প্রদান ও ফসল উৎপাদনে কৃষির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। বাঁধ অপসারণে এলাকাজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ফলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।
এই ব্যাপারে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) সংসদীয় আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম বলেন, জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে খাল ও জলাশয় দখলমুক্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।