কার্টুন শেয়ার করার কারণে হাসান ইনাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংসদে অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, একটি সাধারণ মিম বা কার্টুন শেয়ারের ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, আগেও রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে কার্টুন বা কটূক্তির জন্য গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সময়েও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি মিম শেয়ার কীভাবে সাইবার আইনের অধীনে যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত ধারায় মামলা হিসেবে গণ্য হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের আইন ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে জামিনও দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে তার বক্তব্যের জবাবে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে নয়, বরং পূর্ববর্তী সময়ে ফেক আইডি ও কুৎসামূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে একাধিক চিঠি ও জিডি করা হয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছিল এবং ফেক আইডি থেকে ছড়ানো অপপ্রচার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল।
চিফ হুইপ আরও বলেন, সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি পত্রিকায় জেনেছেন এবং যদি কার্টুন শেয়ারের কারণে কেউ গ্রেপ্তার হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাইবার কার্যক্রম ছাড়াও মানি লন্ডারিংসহ অন্যান্য অভিযোগের তথ্যও রয়েছে, যা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, যদি গ্রেপ্তার ব্যক্তি সত্যিই শুধুমাত্র কার্টুন শেয়ারের ঘটনায় জড়িত হন, তাহলে বিষয়টি মানবিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে পুনরায় মূল্যায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এতে সংসদ সদস্যরা সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ হারাচ্ছেন এবং সংসদীয় জবাবদিহিতা দুর্বল হচ্ছে। এর জবাবে চিফ হুইপ জানান, সংসদের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে কিছু প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তবে সময় বাড়ানো গেলে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার সুযোগ রাখা সম্ভব হবে।