1. admin@daynikdesherkotha.com : Desher Kotha : Daynik DesherKotha
  2. arifkhanjkt74@gamil.com : arif khanh : arif khanh
নবীনগরে কিশোরদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লংবা ভাষা! – দৈনিক দেশেরকথা
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাসভাড়া কত বাড়বে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মপ্রকাশ করলো জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদ জাবিতে ইনফিউশনের উদ্যোগে ‘আইলো রে বৈশাখ ১৪৩৩’ বর্ণিল বৈশাখ উদযাপন কার্টুন শেয়ারে গ্রেপ্তারের অভিযোগ হাসনাতের, ব্যাখ্যা দিলেন চিফ হুইপ শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন “দ্য আনবিটেন ৮২” জেডি ভ্যান্স ছাড়াই ইসলামাবাদে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল, নেতৃত্বে বদল বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পেছাল, ৫ মে নতুন দিন বেগমগঞ্জে নাল জমিতে মাটি কাটার অভিযোগে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা ইরান যুদ্ধবিরতি ভাঙছে, তবু শান্তি চুক্তি হবে : ট্রাম্প

নবীনগরে কিশোরদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লংবা ভাষা!

সঞ্জয় শীল
  • প্রকাশ বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : 

ভাষাবিদ ও ঐহিতাসিকদের মতে, ভাষা নদীর স্রোতের মতো। ভাষাকে যেমন ধরে রাখে মানুষ তেমনি বাঁচিয়ে রাখে কবি-সাহিত্যিকরা। কত ভাষা হারিয়ে গেছে। যেমন ধরুণ, হায়রোগ্লাফিক, আক্কাদিয়া, সুমেরিয়, মেসোপটেমিয়ান, হরপ্পা-মহেনজোধারো, হিট্টি, মায়ানসহ আরো অসংখ্য ভাষা। যে ভাষা লেখকদের নিপুণ লেখায় (খুদাইকৃত ও বিশেষ কাগজ ও কাপড়ে লেখা) মন্দির, পাঠশালার দেয়াল, পাথর, সমাধী সৌধ থেকে উদ্ধার করে করা হয়েছে পাঠ্যদ্দোর। 

সময়ের প্রয়োজনে কিংবা বিভিন্ন গোত্রের বিলু্প্তি ও অন্য ভাষার দাপটে কিছু ভাষা হারিয়ে গেলেও নতুন নতুন ভাষা সৃষ্টি হচ্ছে। হয়তো এই ভাষা গুলো খুব অল্প সময়ই টিকে থাকে কিংবা জন্ম হতে না হতেই আবার হারিয়ে যায়। বর্তমানে প্রযুুক্তির যুগে ভাষা গবেষনাগার ও সংরক্ষণাগারে জমা পড়ছে ধুলাবালি মাখা বইয়ের তাকের মতো! 

পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৭,০,৯৯ টি ভাষা জীবিত থাকার কথা জানা যায় (তথ্য – নেট থেকে নেয়া)। এছাড়া একই ভাষার নানা রুপ-বৈচিত্র্য দেখা যায়। আছে আঞ্চলিকতায় ধীরে ধীরে একটি ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রুপ নিয়ে হারিয়ে যাওয়া। ইতিহাসবিদদের মতে, একটি ভাষা হারিয়ে গেলে হারিয়ে যায় সব কিছু। একটি ভাষার সাথে যুক্ত থাকে সে ভাষার মানুষের নন্দন তত্ত্ব, শ্রদ্ধা-ভক্তি, আচরণ, স্বভাব। ভাষা থেকে আন্দাজ করা যায় এই মানুষের শ্রেণী বিভেদ, সভ্যতাসহ আরো অনেক কিছু। 

আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কিশোরদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, “লংবা ভাষা” বা “উল্টো ভাষা’ বা লবা ভাষা! বাংলা ভাষাকে (প্রচলিত ও আঞ্চলিক) উল্টো করে বলা। যা কেবল মৌখিক ভাবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও এটি ভাষা নয় কিংবা স্বীকৃতও নয়। বলতে বলতে রপ্ত করে ফেলেছে কিশোররা। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে এ ভাষার স্রোত। এ ভাষায় সাধারণত শ্রমজীবি কিশোরদেরকে কথা বলতে দেখা যায়। কথায় কথায় হয়তো বলে চলেছেন,- লবার রমাস্টাক, রক্তবি ছেতারক! 

ভারতীয় তামিল মুভি বাহুবলি যারা দেখেছেন তারা খেয়াল করে দেখবেন, জংলি গোছর একদল সৈনিকের সেনাপতি কি ভাষায় যেনো কথা বলে! এটিও হয়তো কোনো ভাষার উল্টো হতে পারে! শুনতে আমাদের লংবা ভাষার মতনও শুনায়।

ধানসিঁড়ি হোটেলের সানি খান হাসতে হাসতে জানান, কইতে কইতে হিক্কালাইছি, কাস্টমারের সামনে অনেক সময় কতা কওন যা না। এহন কই, শান্তি লাগে। হেরা বুজে না।   

সিএনজি চালক বিল্লাল জানান, অনেক সম মেজাজ খারাপ অইয়া যাগা, যাত্রীরে গালি দিলে ধইরা পিডাইবো! এর লেইগ্যা, লংবা ভাষায় গালি দেই, কই,- অ্যাই লাহা তপু! 

লংবা ভাষাভার্ষী মাসুম মিয়াকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চাই কিভাবে এ ভাষা শিখেছেন? তিনি জানান, হুনতে হুনতে শিকক্কা লাইচি, মাতায় অটোমেটিক আইয়া ফরে। 

লংবা ভাষা দিন দিন ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। বিশেষ করে মোটর শ্রমিকদের দ্বারা এ ভাষা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বেশি। 

লংবা ভাষা ছাড়াও নবীনগরে এক সময় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো “ট” ভাষা ও “চ” ভাষা! এগুলোও কোন লিপিবদ্ধ ভাষা নয়। ৯০ এর দশকের কিশোরীরা এ ভাষায় কথা বলতে দেখা যেতো। ট ভাষা হচ্ছে বাংলা শব্দের সাথে “ইট” যুক্ত করে বলা একটি ভাষা। যেমন ধরুন,- আমি = ইট+আমি= ইটামি! এই ভাষায় যদি আপনি কাউকে বলেন, কেমন আছো? তাহলে বলতে হবে কিটেমন ইটাছো? মানে, কেমন= ইট+কেমন=কিটেমন, আছো=ইট+আছো=ইটাছো। ৯০ এর দশকে কেউ প্রেম নিবেদন করতে গেলেও এই ট ভাষায় বলতে দেখা গেছে। যেমন, ইটামি টিটুমাকে বিটাসি।

এছাড়া আরেকটি ভাষা আছে যেটি “চ” ভাষা বা “চ” বর্গীয় ভাষা নামে পরিচিত। আবার যারা ৯০ দশকের আরেকটি “চ” বর্গীয় ভাষা বুঝে নেন তাহলেও ক্ষতি নেই । এটা সময়ের ব্যবহার। যাই হউক লিখছিলাম “চ” ভাষা নিয়ে। চ ভাষার ক্ষেত্রে একটি শব্দের সাথে “ইনচ’ যুক্ত করে বলতে হয়। যেমন, ভাই=ভাই+ইনচ=ভিনচাই (যারা বাংলা ব্যাকরণ বুঝেন উনাদের জন্য সহজতর কিংবা যারা আইপিএ সিম্বল নিয়ে পড়াশোনা করেছেন উনাদেরও বুঝতে সহজ হবে)। এ ভাষায় যদি আপনি কাউকে বলতে চান,-“ভাই, তোমার নাম কি? তাহলে বলতে হবে,- “ভিনচাই তিনচোমার নিনচাম কিনচি? উত্তরে আপনি যদি বলতে চান তাহলে এভাবে বলতে হবে, – “ইনচামার নিনচাম রিনচবি। অর্থাৎ আমার নাম রবি। 

লংবা ভাষা নিয়ে কেন লিখছি! লংবা ভাষা নিয়ে লিখতে গিয়ে কেন আরো অনেক গুলো ভাষা নিয়ে লিখেছি! ভাষা একটার সাথে একটা রিলেটেড ও একটা সময়কে ধারন করে। তবু আপনাদের হয়তো কৌতুহল হতে পারে, এটা নিয়ে লিখার কি আছে! আমি আগেই লিখেছি, ভাষা মানুষের অনেক কিছু। অনেক ভাষা আছে, যেমন-  চোরের ভাষার নাম ছিলো থিভস ক্যান্ট! আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের চোরেরা এই ভাষায় কথা বলতো। এ ভাষা ছিলো সিম্বলিক। সিম্বলিক হওয়ার কারনে এ ভাষা সিম্বলিক ভাষা নামেও পরিচিত ছিলো।  

লুনফার্দো ভাষা : এ ভাষায় আজেন্টিনার বন্দিরা ব্যবহার করতো বলে জানা যায়। মজার ব্যাপার হলো, এ ভাষার ডিকশনারিও আছে।

সোর্য়াড স্পিক : এ ভাষাকে বলা হয়ে থাকে “লনলি ভাষা” বা একাকিত্বের ভাষা বা নিসঙ্গের ভাষা। আবার এ ভাষাকে গে ভাষা বা সমকামি ভাষা নামেও ডাকা হয়। এ ভাষায় জাপান ও ফিলিপাইনে কথা বলতে শুনা যায় বলে তথ্য পাওয়া গেছে। 

লীট ভাষা : এ ভাষা মুলত হ্যাকাররা ব্যবহার করেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। বর্তমানে হ্যাকররাও এ ভাষার পরিবর্তে অন্য ভাষা ব্যবহার করছেন বলে জানা যায়। তবু হ্যাকারদের ভাষা হিসেবে লীট ভাষার বেশ পরিচিতি আছে। 

পিগ ল্যাটিন  ভাষা : এই ভাষা সাধারণ কুকুর, শুকুর কিংবা পশু-পাখিদের নামে পরিচিত। পিগ ভাষা ছাড়াও এটিকে হট ভাষা, ডগ ভাষা, গুজ (হাঁস) ভাষা নামেও পরিচিত। এই ভাষায় সাধারণত ল্যাটিন ভাষাভাষী শিশুরা কথা বলেন বলে জানা যায়। 

পোলারি ভাষা : এই ভাষা ইউরোপিয়ান নাবিকরা ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়। পরবর্তিতে সমকামিদের ভাষা হিসেবে এই ভাষাকে বৃটেন সরকার নিষিদ্ধ করে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২৫ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park