সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকার যেমন জনদাবিকে গুরুত্ব দেবে, তেমনি কাউকে অন্যায়ের শিকার হতেও দেবে না।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত নবাগত আইনজীবীদের পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার একদিকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, অন্যদিকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। তাই সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময়মতো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি এ বিষয়ে সরকার ও সরকারপ্রধানের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। এ ধরনের তথ্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় প্রকাশ্যে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে জানাবে।
এ সময় অতীত সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, পিরোজপুরে একটি প্রকল্পে কাগজে-কলমে বিপুল অঙ্কের উন্নয়নকাজ দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। তার অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে এনে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রায় ১ হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি তারিক আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ অন্যরা।