কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। মামলাটির নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।
নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার আদেশ এসেছে। মামলার নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করবেন তিনি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। বাড়ি না ফেরায় সেদিনই তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন অপ্রতিমের বাবা।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমের মাথায় বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হলে মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা বলে পুলিশের ভাষ্য।
একই দিন সিয়াম ছাড়া গ্রেপ্তার অন্য তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুই আসামি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।