বিধবা নারীর সাথে জামায়াতের প্রতারণা, ব্যক্তিগত উপহারের কথা বলে দলীয় প্রচারণা

দে
মোঃ সাইফুল ইসলাম
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৪
বিধবা নারীর সাথে জামায়াতের প্রতারণা, ব্যক্তিগত উপহারের কথা বলে দলীয় প্রচারণা


কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রয়াত বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলামের বিধবা স্ত্রী ঝুমা আক্তারকে দেওয়া একটি সেলাই মেশিন ফেরত নিয়েছেন জামায়াত নেতা মো. ইদ্রিস আলী। সেলাই মেশিনটি ব্যক্তিগত উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে প্রথমে জানলেও পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারেন ঝুমা আক্তার। এরপর তিনি মেশিনটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর জামষাইট গ্রামে ঝুমা আক্তারের বাড়ি থেকে সেলাই মেশিনটি ফেরত নেন ইদ্রিস আলী। এ সময় বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত মো. সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। পরিবারের দুরবস্থা বিবেচনায় বিএনপির পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা, গভীর নলকূপ ও টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তাঁদের জন্য একটি ঘর নির্মাণের সামগ্রী দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।


এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার বিকেলে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ঝুমা আক্তারকে একটি সেলাই মেশিন উপহার দেন ইদ্রিস আলী। ঝুমা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথমে এটিকে তাঁর প্রয়াত স্বামীর বন্ধুর ব্যক্তিগত উপহার বলে মনে করেছিলেন। পরে মেশিনটি জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারেন। এদিকে সেলাই মেশিন দেওয়ার ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘জামায়াতের উপহার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আরও আলোচনায় আসে।


সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ঝুমা আক্তার বলেন, “আমি জানতাম, আমার স্বামীর বন্ধু ইদ্রিস আলী আমাকে সেলাই মেশিনটি দিয়েছেন। কিন্তু আমি জানতাম না যে এটি জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। যখন জানতে পেরেছি যে মেশিনটি জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, তখন আমি তা ফেরত দিয়েছি। কারণ, আমি বিএনপি পরিবারের লোক।”


অন্যদিকে জামায়াত নেতা ইদ্রিস আলী বলেন, “সেলাই মেশিনটি ইউনিয়ন জামায়াতের পক্ষ থেকে আমার উদ্যোগে দেওয়া হয়েছিল। দেওয়ার পর গণমাধ্যমে বিষয়টি একটু বেশি ও অন্যভাবে প্রচার করা হয়েছে। এতে দলীয়ভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাইফুল ভাইয়ের পরিবারও বিব্রত হয়েছে। এ কারণে সাইফুল ভাইয়ের স্ত্রী আমাকে ফোন করে সেলাই মেশিনটি নিয়ে যেতে বলেন। তাঁদের কথা বিবেচনা করেই আমি মেশিনটি নিয়ে যাচ্ছি।”


সেলাই মেশিন দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ব্যক্তিগত সহায়তা ও দলীয় উদ্যোগের বিষয়টি কীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা মতামত দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য