সকাল কিংবা বিকেল—এক কাপ চা অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাজের ফাঁকে ছোট্ট বিরতি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—সবখানেই যেন চায়ের উপস্থিতি। সেই পরিচিত পানীয়কে ঘিরেই আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে ‘ন্যাশনাল চাই ডে’।
ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে SomruS নামের একটি প্রতিষ্ঠান দিবসটির সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতিবছর ২১ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন দেশে চা, বিশেষ করে মসলা চায়ের স্বাদ ও বৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে দিনটি উদযাপন করা হয়।
চা শুধু একটি পানীয় নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি সংস্কৃতি ও সামাজিকতারও অংশ। ভারতীয় উপমহাদেশে চায়ের সঙ্গে দুধ, আদা, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ কিংবা মৌরির মতো নানা মসলা যোগ করে পান করার ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের।
বিশেষ করে মসলা চায়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ নির্ভর করে এতে ব্যবহৃত উপকরণের ওপর। অঞ্চল ও ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী এর রেসিপিতেও দেখা যায় নানা বৈচিত্র্য। প্রচলিত দুধ ও লাল চায়ের পাশাপাশি বর্তমানে গ্রিন টি, চা লাতে এবং বিভিন্ন ধরনের হার্বাল চাও জনপ্রিয় হয়েছে।
চায়ের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর সহজলভ্যতা ও বৈচিত্র্যময় স্বাদ। অনেকের দিনের শুরু হয় এক কাপ চা দিয়ে। আবার কর্মব্যস্ততার মাঝে চা হয়ে ওঠে কিছুক্ষণের বিশ্রামের উপলক্ষ।
বাংলাদেশেও চায়ের সঙ্গে আড্ডা ও অতিথিপরায়ণতার সম্পর্ক বেশ নিবিড়। বাড়িতে অতিথি এলে চা পরিবেশন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে গল্প—দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত চিত্র।
তবে চা পানেও পরিমিতি বজায় রাখা প্রয়োজন। চায়ে অতিরিক্ত চিনি ও দুধ যোগ করলে ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায়। আবার বেশি ক্যাফেইন গ্রহণে কিছু মানুষের ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা কিংবা বুক ধড়ফড়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ২১ সেপ্টেম্বরের ‘ন্যাশনাল চাই ডে’ বাংলাদেশের সরকারি জাতীয় চা দিবস নয়। এটি মূলত বেসরকারিভাবে প্রচলিত একটি খাদ্য ও পানীয়ভিত্তিক দিবস। ২০২৬ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের জাতীয় চা দিবস ৪ জুনের পরিবর্তে ২১ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ বছর জাতীয় চা দিবসের আনুষ্ঠানিক আয়োজন বাংলাদেশ চা বোর্ড ২০ জুন শ্রীমঙ্গলে করেছে।
মেটা ডেসক্রিপশন: আজ ২১ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে ন্যাশনাল চাই ডে। চায়ের স্বাদ, বৈচিত্র্য ও চা ঘিরে গড়ে ওঠা সংস্কৃতিকে উদযাপন করতেই প্রতিবছর দিনটি পালন করা হয়।