মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ইরানের সব বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সোমবার সকাল ১০টা (ইস্টার্ন টাইম), অর্থাৎ ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে পারস্য উপসাগরীয় ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় এই অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অবরোধ শুরুর আগে নাবিকদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থাকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। সতর্কবার্তায় জানানো হয়, এই অবরোধ পতাকা নির্বিশেষে সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ কোনো দেশের জাহাজই এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে না।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস আরও জানিয়েছে, ইরানের বাইরে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ ট্রানজিট প্যাসেজ এই বিধিনিষেধে সরাসরি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় প্রবেশ করা জাহাজগুলো সামরিক উপস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ও ইরানের উপকূলীয় বন্দরগুলো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। শনিবার থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত চলা এই আলোচনা ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনার ঘটনা। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘোষণা দেয়, সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দরে অবরোধ শুরু করা হবে।
এদিকে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, তাতে তার কিছু যায় আসে না। ফ্লোরিডা থেকে ফেরার পর মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান যদি না ফেরে তাতেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সমস্যা নেই।
অন্যদিকে, আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ইসলামাবাদে আলোচনার সময় তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। তিনি বলেন, তারা একটি সমঝোতা থেকে মাত্র ‘কয়েক ইঞ্চি দূরে’ ছিলেন।
তবে আলোচনায় সমাধান না আসায় বর্তমানে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।