নেপালে নতুন সরকার গঠনের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির প্রশাসন। এ লক্ষ্যে অতীত ও বর্তমান রাজনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ ও সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত প্যানেল গঠন করা হয়েছে।
নতুন সরকারটি ৫ মার্চের সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়। ওই নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বড় ধরনের জয় পায়। দলের নেতা ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্র শাহ বর্তমানে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এর আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে কাজ করে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সংস্কারমুখী ভূমিকার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
সরকারি মুখপাত্র শাসমিত পোখরেল জানিয়েছেন, পাঁচ সদস্যের এই প্যানেলের নেতৃত্ব দেবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজেন্দ্র কুমার ভান্ডারি। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি বলেন, আইনগত মানদণ্ড ও প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৮ সালে ২৩৯ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর সরকারি পদে আসা শত শত রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাও এই তদন্তের আওতায় আসতে পারেন।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি নির্বাচনের আগে থেকেই দুর্নীতি দমন ও স্বচ্ছ শাসন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই নতুন সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী পুরোনো দলগুলোর বিরুদ্ধে জনগণের সমর্থন অর্জনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।