হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির প্রতি এ আহ্বান জানান বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াং ই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সম্মান ও সুরক্ষিত রাখা যেমন জরুরি, তেমনি একই সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সর্বসম্মত আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনায় ফিরে যাওয়ার পক্ষেও চীন সমর্থন দিচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর কোনো জাহাজই এই অবরোধ ভেঙে প্রণালি পার হতে পারেনি। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের উপকূলে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে তারা আটকাবে অথবা ফিরিয়ে দেবে। তবে ইরান ছাড়া অন্য দেশগুলোর উদ্দেশে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১০টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজই অবরোধ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরান যে অর্থ আদায় করতে চেয়েছিল তা বন্ধ করা, একই সঙ্গে তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে ইরানের তেল রপ্তানি কমিয়ে দেওয়া।
অন্যদিকে ইরান এই নৌ অবরোধকে ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং এর প্রতিশোধ হিসেবে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরে নৌ চলাচল লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বুধবার জানিয়েছে, ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ বন্দর আব্বাস ছাড়ার পর মার্কিন অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তবে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স জাহাজটিকে সফলভাবে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়।