দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবার সবচেয়ে বড় অস্ত্র রপ্তানি নীতি পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে জাপান। নতুন এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের আসন্ন অস্ত্র রপ্তানি নীতি শিথিলকরণকে কেন্দ্র করে পোল্যান্ড থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র দেশগুলোর প্রতি নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এই আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নীতিগত পরিবর্তন অনুমোদন করেছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হতে পারে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা জাপান এবার নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি অস্ত্র রপ্তানি বাজারে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে দেশটি নিজস্ব সামরিক খাতে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে, যা সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমানের মতো উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদনে সক্ষম শিল্পকে ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য প্রথম বড় রপ্তানি চুক্তির মধ্যে ফিলিপাইনের জন্য যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ থাকতে পারে। দক্ষিণ চীন সাগরে চলমান উত্তেজনার কারণে ফিলিপাইন ও পোল্যান্ড উভয়ই আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এই নীতি পরিবর্তন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অস্ত্র বাজার ও নিরাপত্তা কৌশলেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।