নাম মূলত হাবু হলেও বেনারসি শাড়ীর জাঁকজমকতার প্রভাবে এটি আশপাশের মানুষের কাছে তাঁতীপাড়া নামেই বেশি পরিচিত। এলাকাটি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। গঙ্গাচড়া উপজেলার আওতাধীন হলেও এলাকাটি গজঘন্টা ইউনিয়নের সীমাধীন।
স্থানীয় তাঁতী আব্দুর রহমান জানান প্রাথমিকভাবে ১০০ জন তাঁতী মিলে বেনারসিপল্লীতে বেনারসী তৈরীর তাঁত কারখানার যাত্রা শুরু করেছিল। ধীরে ধীরে বেনারসি শাড়ি তৈরী আখড়া হয়ে ওঠে এই তাঁতিপল্লি। কিন্তু সেই রমরমা এখন চর চোখে পড়ে না। শীর্ণ ভাঙ্গা তাঁত যন্ত্রগুলোতে পড়ে আছে ধুলার আস্তরণ।
একসময় এই জায়গায় ৫০০ এরও অধিক বেনারসি তাঁতের ঘর থাকলেও সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে এই স্থানে মাত্র তিনটি তাঁত ঘর চালু রয়েছে। কিন্তু রাস্তায় দু’পাশে রয়েছে প্রায় বারো থেকে পনেরোটি শাড়ির দোকান। উত্তর ও দক্ষিণ উভয়দিকে লালমনিরহাট জেলাসহ রংপুর শহরের সঙ্গে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এখানে প্রতিদিন অনেক ক্রেতা আসেন বেনারসি কিনতে।
নিশাত বেনারসি গেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায় যে, অনেক রকম শাড়ী পাওয়া গেলেও তাঁতঘরগুলোর বেহাল দশা। স্থানীয় মারফত খবর মিলল যে, তাঁত মালিকরা ভারত থেকে নিয়ে কিছু শাড়া এনে সেখানকার বেনারসি নামে বিক্রি করছে। স্থানীয় তাঁত শ্রমিকরা জানায় যে সেসব তাঁত কারখানা বন্ধ হয়েছে অনেক আগেই। অন্ধাকারাচ্ছন্ন ও আধভাঙ্গা স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে মাকড়সার জাল যেন বিলীন হতে বসা সেই বেনারসীর’ই এক মুমূর্ষু প্রতিচ্ছবি। এই তাঁত শিল্পের দ্রুত সংস্কার করা না হলে খুব শীঘ্রই বিলীন হয়ে যাবে এই বেনারসি শিল্প এবং কালের ক্রমে হারিয়ে যাবে এক নিজস্ব বাঙালি সংস্কৃতি।