বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের অস্থিরতা ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে ছয়টি সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গম আমদানির এ সিদ্ধান্ত এসেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা থেকে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও তিন লাখ ৩০ হাজার টন গম আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
১. ভারতের গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা
২. ইউক্রেন-রাশিয়া শস্যচুক্তি নবায়ন না হওয়া
৩. রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ
৪. ইরান-ইসরাইল দ্বন্দ্ব
৫. রেড সি সংকট
৬. সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈশ্বিক অস্থিরতা
খাদ্য অধিদপ্তরের মতে, এসব ঝুঁকি সামনে রেখে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ওএমএস এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে আন্তর্জাতিক বাজারে একাধিক উৎস থেকে গম সংগ্রহ করা জরুরি।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “রাশিয়া ও ইউক্রেন ব্লকে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই আমরা বাজারে বৈচিত্র্য আনতে চাইছি। যুক্তরাষ্ট্রের গমের মান ভালো, প্রোটিনের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি।”
সরকারি হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি টন গম কিনতে ব্যয় হবে ৩০২.৭৫ মার্কিন ডলার। ডলারের বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (১২২.৭৫ টাকা), এই ২.২০ লাখ টন গম আমদানিতে ব্যয় হবে ৮১৭ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫০ টাকা।
এই গম সরবরাহ করবে এগ্রোক্রপ ইন্টারন্যাশনাল প্রা. লিমিটেড। এফওবি, ভাড়া, বিমা ও অন্যান্য ব্যয়সহ একটন গমের শুদ্ধ মূল্য দাঁড়াবে ৩০২.৬২ ডলার। সরবরাহকারীর নির্ধারিত মূল্য থেকে সরকারিভাবে নির্ধারিত দরের পার্থক্য প্রতি টনে মাত্র ১৩ সেন্ট। গমের ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম এবং বাকি ৪০ শতাংশ মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে।
চলতি অর্থবছরে (২০২৫–২৬) ৬ লাখ টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টন গম আমদানির আরেকটি চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমদানি বাড়ালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় থাকবে। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫% পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এ শুল্কের বিপরীতে কূটনৈতিক আলোচনায় সুবিধা পেতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়াবিন, তেলবীজ, ডাল, চিনি, বার্লি, এমনকি বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানির পরিকল্পনাও করেছে সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গম সরবরাহ করবে সরকারি ও USDA-এর অনুমোদিত রপ্তানি উন্নয়ন সংস্থা US Wheat Associates। এই সংস্থা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দায়িত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ কে সোয়ার্রের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেয় এবং দাম ও শর্ত চূড়ান্ত করে।