পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা যখন ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মায়ামিতে মিক্সড মার্শাল আর্টস (ইউএফসি) লড়াই উপভোগ করছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ঘোষণা দেন, ইরান যুদ্ধের অবসানে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি উভয় পক্ষ। আর একই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প কয়েক ঘণ্টা ধরে অ্যারেনায় বসে ইউএফসি ম্যাচের উত্তেজনা উপভোগ করেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মায়ামির ওই অ্যারেনায় ট্রাম্পের চারপাশে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, পরিবারের কয়েকজন সদস্য, ইউএফসি কর্মকর্তারা এবং আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারতস্থ রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর, সংগীতশিল্পী ভ্যানিলা আইস, সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ড্যান বনগিনো এবং জনপ্রিয় পডকাস্টার জো রোগান।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যখন পাকিস্তানে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘দুঃসংবাদ হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি,’ ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রাম্প মায়ামিতে বড় স্ক্রিনে লড়াইয়ের হাইলাইট দেখছিলেন। জনাকীর্ণ পরিবেশের মাঝেও তাকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। লোকজন তার কাছে এসে বিভিন্ন আপডেট দিয়ে আবার সরে যাচ্ছিলেন, আর ট্রাম্প স্থিরভাবে ম্যাচ উপভোগ করছিলেন।
ট্রাম্প অ্যারেনায় প্রবেশের সময় ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার খবর তিনি জানতেন কি না, তা স্পষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, তাকে ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। তবে এক পর্যায়ে মার্কো রুবিও নিজের ফোন দেখিয়ে ট্রাম্পকে কিছু জানান বলে জানা গেছে। তবুও ট্রাম্পের মুখে কোনো হতাশা বা রাগের ছাপ দেখা যায়নি। বরং ক্যামেরার দিকে হালকা হাসি এবং বিজয়ীদের উদ্দেশে থাম্বস-আপ দিতে দেখা গেছে তাকে।
ফ্লোরিডায় যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তি হোক বা না হোক তাতে তার কিছু যায় আসে না। তিনি দাবি করেন, ‘আমরাই জিতেছি, যেভাবেই হোক।’
তবে ওয়াশিংটনে ফিরে ট্রাম্পের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন বাস্তবতা বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, জ্বালানির দামও ঊর্ধ্বমুখী। সমালোচকরা এসবের জন্য তার যুদ্ধ-সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন। এছাড়া ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুমকির কারণে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি তার কিছু সমর্থকরাও ক্ষুব্ধ বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি তুলছেন এবং তার মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু এসব চাপ থেকে দূরে মায়ামির ওই অ্যারেনায় ট্রাম্প যেন নিজের স্বস্তির জায়গায় ছিলেন। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, আগ্রাসী লড়াই এবং উত্তেজনার আবহ—সব মিলিয়ে পরিবেশটি ছিল অনেকটা তার রাজনৈতিক সমাবেশের মতোই।
এদিন ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও টিফানি ট্রাম্প, ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং তার সঙ্গী বেটিনা অ্যান্ডারসন। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে পাকিস্তানে থাকায় ইভাঙ্কার স্বামী জ্যারেড কুশনার সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।