দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় মেগাস্টার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ‘থালাপতি’ বিজয়ের জীবনে আজ যোগ হচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। রোববার (১০ মে) তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় আয়োজিত হবে জমকালো এই শপথ অনুষ্ঠান, যা ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ।
এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলমান দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগম (ডিএমকে) এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (এআইএডিএমকে)-এর দ্বিমেরু আধিপত্যের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের আমন্ত্রণে এবং জোট সরকারের অন্যতম শরিক হিসেবে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতার এই উপস্থিতিকে ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকের মতে, এটি বিজয়ের নতুন সরকারের প্রতি কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থনের একটি দৃশ্যমান প্রকাশ।
এর আগে শনিবার রাতে তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার বিজয়কে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। জানা গেছে, বিজয়ের সঙ্গে আজ আরও ৯ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রীও শপথ গ্রহণ করবেন।
বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজগাম (টিভিকে) ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিআই (এম) এবং আইইউএমএল-এর সমর্থনে ১২০ জন বিধায়কের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে সরকার গঠনের পথ সুগম হয়।
এদিকে বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখার অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন লাখ লাখ ভক্ত ও সমর্থক। চেন্নাই শহর যেন উৎসবের নগরীতে রূপ নিয়েছে। রাস্তাঘাটে দেখা যাচ্ছে হলুদ ও মেরুন রঙের ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টার ও পতাকা। রূপালি পর্দার ‘থালাপতি’ এবার বাস্তব রাজনীতির ‘জননেতা’ হিসেবে সচিবালয়ে প্রবেশ করছেন— এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করতে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে।