মানুষ রোগ ব্যধিতে আক্রান্ত হলে সুস্থ হওয়ার জন্য হাসপাতালের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু বর্তমান হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায় তারা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে যেন নতুন রোগ নিয়ে বাড়ি ফিরছে। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্থা যদি বলি, এটি এতোটাই বেহাল দশায় যে এখানে সুস্থ মানুষের অসুস্থ হওয়ার উপক্রম হয়। অসুস্থ রোগীর সাথে আসা স্বজনরাই রোগী হয়ে বাড়ি ফেরেন এখন থেকে। নতুন বহুতলা বিশিষ্ট ভবনটিতে ৭/৮ টি লিফট থাকলেও চালু থাকে ১/২ টি, বাকি সবগুলোই নষ্ট। ফলে লিফটে উঠা নামা করাটা যেন একপ্রকারের যুদ্ধ। মেডিসিন, নেফ্রোলজি, নিউরোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ৮/১০ তলায় হওয়ায় জরুরি কোনো ঔষধের জন্য নিচে নেমে আবার উপরে যেতে ঘন্টা পার হয়ে যায়। রোগী, সাধারন মানুষ, মৃত মানুষ, খাবার এবং ঔষধ সব এক লিফটেই উঠানামা করানো হয়। মেডিসিন বিভাগের রোগীর চাপ এতো বেশি যে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় রোগীদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বারান্দা এবং সিঁড়ির আশেপাশের জায়গায় নিচে থাকতে হয়। প্রতি তলায় ওয়াশরুম অপরিষ্কার ও অকেজো যা প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য। ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাস্টবিন, খাবারের বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই ভবনে। ভবনের বাইরে বেশ দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এছাড়াও দক্ষ জনবলের অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এখনো চালুই হয়নি। এসব তো ভর্তি রোগীদের দুর্ভোগের কথা, যারা শুধু ডাক্তার দেখাতে আসেন তাদেরও কাউন্টারে নানা সমস্যায় পরতে হয়। যেহেতু দুপুর ঠিক ১২ টায় কাউন্টার অফ করে দেয়, ফলে ২-৩ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় ফেরত যেতে হয় অনেক দূর দূরান্তরের রোগীকে। রোগীদের যেন সমস্যার শেষ নেই এখানে। সার্বিকভাবে বলা যায়, নতুন হাসপাতালটির এমন অবস্থা যেন তা নিজেই বয়সের ভারে আক্রান্ত।
তাই এইসকল সমস্যার দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।