তুরস্ক ইস্তাম্বুলে মুসলিম বিশ্বের একাধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক আয়োজনে যাচ্ছে, যেখানে গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ফিদান বলেন, এই বৈঠকে ‘আমাদের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে আমরা একসঙ্গে কী অর্জন করতে পারি তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।’
ভেড়ার মতো আমন্ত্রিত দেশের ভিতরে রয়েছেন মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্দান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফিদান জানিয়েছেন, এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সেই প্রেক্ষাপট থেকেই এখন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। তিনি এসময় আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আশার একটি ঝলক দেখা দিয়েছে, যা সবার জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।’
ফিদান বলেন, বৈঠকে আলোচনা হবে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে, বাস্তবায়নে বাধাগুলো কী, কোন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কী হবে। এছাড়া পশ্চিমা ও বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার জন্য কী সমর্থন রয়েছে তাও এ বৈঠকে যাচাই করা হবে।
চীফফ বইছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইঙ্গিত করে ফিদান বলেন, তিনি ‘গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে এবং সামনের চোখের সামনে গণহত্যা পুনরায় শুরু করার অজুহাতে অতর্কিত আচরণ দেখাচ্ছেন’—এমন কঠোর শব্দও তিনি ব্যবহার করেন।
তুরস্ক ইতোমধ্যে গাজার জন্য সহায়তা কাজের অংশ হিসেবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সাহায্য করার জন্য ৮১ সদস্যের একটি দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া দল প্রেরণ করেছে; তবে এসব কর্মীদের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রবেশের জন্য এখনও ইসরায়েলের অনুমোদনের অপেক্ষা ইস্যুতে রয়েছে। ফিদান বলেন, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং তুরস্কের সেনাবাহিনীও যুদ্ধবিরতি তদারকিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এমন আন্তর্জাতিক বাহিনীতে যোগদান সংক্রান্ত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তুরস্কের বিরুদ্ধে তাদের ‘বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি’ থাকা অবস্থায় তুরস্ককে গাজায় অংশ নিতে দেওয়াটা যুক্তিসঙ্গত হবে না এবং তারা এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে ইতোমধ্যে জানিয়েছে।
ইস্তাম্বুল বৈঠককে কেন্দ্র করে যে প্রস্তুতি চলছে, তা গাজা সংকটের শান্তিবেন্ধনের প্রয়োজনীয়তা ও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রগতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে; একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে সমর্থন নিশ্চিত করাই এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।