পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সর্বশেষ বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও দুই দেশ আবারও বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ও সাংবাদিক হামিদ মির। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে জিও নিউজের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপক শেহজাদ ইকবালের সঙ্গে আলাপকালে হামিদ মির বলেন, এক বা দুই বৈঠকে কোনো বড় সমাধান আসা সম্ভব নয়, তাই এই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, “আমরা বলতে পারি না যে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ এক বা দুই বৈঠকে কোনো বড় সমাধান আসে না।”
তবে নতুন বৈঠকের সময় ও স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। উভয় পক্ষের সূত্রের বরাত দিয়ে হামিদ মির বলেন, দীর্ঘ আলোচনা শেষে কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজ নিজ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোন কোন বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে, তা প্রকাশ করতে তারা রাজি হয়নি। তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানি প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান, তিনি বিষয়গুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবেন। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এ বিষয়ে মিডিয়ায় কোনো ঘোষণা না এলেও আবার বৈঠক হতে পারে।
হামিদ মির জানান, ইসলামাবাদের আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত ফল না এলেও উভয় পক্ষ আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরতে সম্মত হয়েছে এবং পরবর্তী বৈঠকের সময় ও স্থান পরে নির্ধারণ করা হবে।
যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দুই সপ্তাহের জন্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে। জিও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে পাকিস্তান, তুরস্ক ও চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দুই সপ্তাহ শেষে মেয়াদ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রোববার কূটনৈতিক আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “কূটনীতি কখনোই শেষ হয়ে যায় না,” যা ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান এখনও আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো নতুন বার্তা পাওয়া যায়নি।
হামিদ মিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে উভয় পক্ষ একটি মধ্যপন্থা বা ‘উইন-উইন’ অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। তিনি জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়েও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন।
তবে আলোচনার একটি বড় অংশ ব্যয় হয়েছে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, লেবানন ও হিজবুল্লাহ ইস্যুতে তারা কোনো আপস করবে না। হামিদ মির বলেন, ইরান তাদের মিত্রদের বার্তা দিতে চায় যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে তারা হিজবুল্লাহ বা হামাসকে পরিত্যাগ করেনি। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল-লেবানন আলোচনা আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এছাড়া হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্যকে হামিদ মির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের কৌশল বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, আলোচনার টেবিলে যা ঘটছে এবং ট্রাম্প জনসমক্ষে যা বলছেন, তার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় শনিবার (১১ এপ্রিল) আলোচনা শুরু হয়ে প্রায় ২১ ঘণ্টা পর রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে শেষ হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হওয়ায় আলোচনা কার্যত ব্যর্থ বলে বিবেচিত হচ্ছে।