হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আবাহনীর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২-০ গোলে জয় পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস। এই জয়ের মধ্য দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশ ফুটবল লিগে ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে দলটি।
ম্যাচজুড়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা থাকলেও গোলের দেখা মিলছিল না। সময় যত গড়াচ্ছিল, ম্যাচ ড্রয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে বসুন্ধরা কিংস।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে পেনাল্টি পায় বসুন্ধরা কিংস। বক্সের মধ্যে আবাহনীর দুই ডিফেন্ডার ফাহিমকে ফেলে দিলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক নিতে গিয়ে ভুল করেননি দরিয়েলতন। তার ডান পায়ের শট আবাহনীর গোলরক্ষকের বাঁ পাশ দিয়ে জালে জড়িয়ে গেলে স্টেডিয়ামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উল্লাস।
প্রথম গোলের আনন্দ কাটতে না কাটতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সোহেল রানা। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে বুলেটগতির শটে তিনি গোল করেন। এতে বসুন্ধরা কিংসের শিরোপা পুনরুদ্ধার কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর শুধু শেষ বাঁশির অপেক্ষা ছিল। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই হাজারো সমর্থক মাঠে নেমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে মেতে ওঠেন।
এই জয়ে ১৭ ম্যাচ শেষে বসুন্ধরা কিংসের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৩৮। অপরদিকে সমান ম্যাচে আবাহনী ও ফর্টিসের সংগ্রহ ৩৪ পয়েন্ট করে। বসুন্ধরা কিংস সর্বশেষ মৌসুমের আগে টানা পাঁচবার শিরোপা জিতেছিল এবং এবার ষষ্ঠবারের মতো লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আবারও নিজেদের আধিপত্য ফিরিয়ে আনল।
চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত হওয়ার আগে ২ গোলে পিছিয়ে থাকা আবাহনী ম্যাচে ফেরার সুযোগও পেয়েছিল। ৮৫ মিনিটে এমেকা ওগবুগ প্রায় মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের কয়েকজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। তবে বলটি অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আরেকটি সুযোগ আসে আবাহনীর সামনে, কিন্তু বক্সের ডান দিক থেকে সুলেমান দিয়াবাতে সতীর্থকে ঠিকভাবে পাস দিতে না পারায় গোলের সম্ভাবনা নষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত গোলরক্ষক শ্রাবণ বলটি তালুবন্দি করলে আবাহনীর প্রত্যাবর্তনের আশা শেষ হয়ে যায়।
এরপর আর কোনো গোল না হলে জয় ও শিরোপা নিশ্চিত করে মাঠজুড়ে উৎসবে মাততে থাকে বসুন্ধরা কিংস।
মন্তব্য করুন