গাজীপুরের শ্রীপুর সংলগ্ন বনাঞ্চল থেকে কৌশলে মূল্যবান সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে একদল প্রভাবশালী ‘বনখেকো’ চক্র। দেখার যেন কেউ নেই—এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একের পর এক গাছ উজাড় হতে থাকায় স্থানীয় বন ও পরিবেশ এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে এবং দিনের বেলা বিভিন্ন কৌশলে বনের সরকারি গাছগুলো কেটে সাবাড় করছে। বনের ভেতরে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা মূল্যবান শাল, গজারি ও অন্যান্য ঔষধি ও বনজ বৃক্ষ লক্ষ্য করে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় এই চক্রটির বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।
বন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে অবাধে গাছ কাটতে থাকায় দিন দিন বনের আয়তন সংকুচিত হচ্ছে এবং নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই অঞ্চলে প্রকট হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘বনখেকো’ চক্রটি এতটাই বেপরোয়া যে তারা ধারাবাহিকভাবে বনের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে, অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। সাধারণ মানুষের দাবি, এখনই যদি এই গাছ কাটা বন্ধ করা না যায়, তবে অচিরেই এই বিশাল বনাঞ্চল মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাবে।
প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সরকারিভাবে গাছ কাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সাথে বনের জমি রক্ষায় টহল জোরদার করা এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সাধারণ মানুষের আকুতি— “আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য এই বনাঞ্চলটুকু টিকিয়ে রাখতে চাই। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপই পারে এই বনাঞ্চলকে দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করতে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় বন কর্মকর্তা বলেন “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি” এবং আমাদের অভিযান চলছে”)