সরকার ঘোষিত ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাসে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনা মানছেন না নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার বেশিরভাগ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা—এমন অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে ১০টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কবিরহাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান করে কয়েকটি সরকারি দপ্তর ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় পার হলেও অধিকাংশ দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নেই। অনেক অফিসেই তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক কর্মকর্তা নিজেদের সুবিধামতো সময়েই অফিসে আসছেন। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে দেখা যায়, অধিকাংশ অফিসই তখন বন্ধ ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু দপ্তরে কর্মচারীরা এসে তালা খুলতে দেখা যায়। তবে ওই সময়ে অধিকাংশ দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।
নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিটের মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেক কর্মচারী জানান, কর্মকর্তারা বাইরে বা মাঠ পর্যায়ের কাজে রয়েছেন। তবে বাস্তবে অনেক কর্মকর্তাকে তখনও অফিসে আসতে দেখা যায়নি।
এদিকে বিষয়টি জানতে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফিল্ড অফিসার ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমার কাজ ছিল। আপনাদের কেন বলবো? আপনারা কে, কিসের সাংবাদিক—কার্ড দেখান।”
পরে সাংবাদিকরা পরিচয়পত্র দেখালে তিনি মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও বন্ধ করতে বলেন এবং একপর্যায়ে মোবাইলটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সেখানে কিছু সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূদম পুষ্প চাকমা ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি অফিসে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।