ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের নামে গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে চূড়ান্তভাবে গেজেট প্রকাশের আগে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় নিয়েছে কমিশন।
ইসি জানিয়েছে, একই জোট ও দলের আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিন আদালত থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা নির্দেশনা আনতে পারেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কোনো আদেশ বা তথ্য না এলে নুসরাত তাবাসসুমের নামেই গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, মনিরা শারমিনের পাঠানো চিঠিতে আইনি কোনো ভিত্তি কিংবা কজলিস্টের উল্লেখ নেই। ফলে শুধুমাত্র একটি চিঠির ওপর ভিত্তি করে গেজেট প্রকাশ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, মনিরা শারমিন তার চিঠিতে শুনানির নির্দিষ্ট সময় বা তারিখও উল্লেখ করেননি। তাই অনির্দিষ্টকালের জন্য গেজেট প্রকাশের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা যায় না। এই কারণেই কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
গেজেট প্রকাশের পর যদি আদালত থেকে মনিরা শারমিনের পক্ষে কোনো আদেশ আসে, সে ক্ষেত্রে ইসির অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আদালতের কোনো আদেশ এলে কমিশন অবশ্যই তা বিবেচনায় নেবে এবং সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে কমিশন আপিল করবে না বলেও জানান তিনি।
তবে বাস্তবতা হলো, গতকাল কিংবা সোমবার বিকেল পর্যন্ত মনিরা শারমিন আদালতের কোনো আদেশ কমিশনে জমা দিতে পারেননি। ফলে সন্ধ্যার মধ্যে নতুন কোনো নির্দেশনা না এলে নুসরাত তাবাসসুমের নামেই সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।