পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান পোশাক নিয়ে সারাদেশে কেউ সন্তুষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পুলিশের বর্তমান পোশাকটি বাস্তবে মানানসই হয়নি এবং পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে অসন্তোষ জানানো হয়েছে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতিসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, পুলিশের জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী ও গ্রহণযোগ্য পোশাক নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন পোশাকের ক্ষেত্রে আগের মতোই শার্ট বহাল থাকবে, যা আগে মেট্রোপলিটনসহ সারাদেশের পুলিশের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে প্যান্ট বা পাজামার ক্ষেত্রে খাকি রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর এটিকে একটি গ্রহণযোগ্য পোশাক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্রিফিংয়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রম প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদক ব্যবহারকারীদের আগে না ধরে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত কিংবা দেশের ভেতরে বড় পরিসরে যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগি আসামি কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছে। তারা আদালতের জামিনে মুক্তি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামিন দেওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার, সরকার সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে যেকোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী বা অপরাধীর বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ সময় সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে আগের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও গতিশীল। এতে সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়ন হয়েছে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে গঠনমূলক বিতর্ক হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছে যৌথভাবে কাজ করেছে।
জঙ্গিবাদ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে ভিন্নতা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি যা বলেছেন সেটিই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে তথ্য উপদেষ্টা কীভাবে বলেছেন তা তিনি জানেন না, তবে সংবাদমাধ্যমে ভুল ব্যাখ্যা হওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।