কুবি ও আশপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের সঙ্গে অংশীজনদের মতবিনিময়

দে
মোহাম্মদ ইব্রাহিম
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৪
কুবি ও আশপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের সঙ্গে অংশীজনদের মতবিনিময়


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি সেবা দ্রুত নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাস এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।


এছাড়া ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকা ও কুমিল্লা শহরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা এবং একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।


সভায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‍্যাব, এসআরবি, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, মেস মালিক, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, এবং বিভিন্ন সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


এ ছাড়া সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিষদ, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ওয়াসা, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (বার্ড), কুমিল্লা জাদুঘর, উপজেলা প্রশাসন ও এনএসআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিত ছিলেন।


সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জরুরি সেবাগুলো দ্রুত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন উপস্থিত প্রতিনিধিরা।


সভায় কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা নগরীকে একটি নিরাপদ নগরীতে রূপান্তরের জন্য আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছি। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টমছম ব্রিজ এলাকায় আমাদের ছয়টি টিম কাজ করে। এছাড়া সম্প্রতি আমরা কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু করেছি। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধীদেরও আটক করা হচ্ছে। আশা করছি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত কমে যাবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘ইদানীং আমরা একটি বিষয় লক্ষ্য করছি, শিক্ষার্থী বা সাধারণ মানুষ কোনো বিপদে পড়লে আইনি সহায়তা না চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা ফেসবুকে পোস্ট করেন, সমস্যা নেই; তবে একই সঙ্গে পুলিশকেও অবহিত করবেন। আমাদের নম্বর সব জায়গায় দেওয়া আছে। আপনারা অভিযোগ জানালে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য।’


উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “আমরা যে সমাজে বসবাস করি, এটিই আমাদের শিকড়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা শুধু আমাদের একার নয়, এরা আপনার-আমার সবারই সন্তান কিংবা স্বজন। অথচ বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে লালমাই পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও কোনো পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায়, আশেপাশের মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা ক্লাস বা টিউশনি শেষে যাতায়াতের সময় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। আমাদের শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা আমাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। তাই ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সমাজের সকল অংশীজনকে গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়ার এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”



বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, ‘এখানে দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন। কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এখন প্রশ্নের মুখে রয়েছে। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিনিয়ত হেনস্তা, হয়রানি ও ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সব সময় আমাদের হাতে থাকে না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে আমি আপনাদের কাছে আবেদন জানাই, আপনারা আমার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।’


তিনি বলেন, ‘আমাদের ছাত্রছাত্রীদের যে আবেদন আপনাদের কাছে রয়েছে, সেটি হচ্ছে নিরাপত্তার। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা আপনাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা মানে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নয়, এটি পুরো কুমিল্লার নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিষয়টি বিবেচনা করে আপনারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।’


উপাচার্য আরও বলেন, ‘এখানে মেস মালিক যারা রয়েছেন তাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আপনাদের যাদের বাসায় আমাদের শিক্ষার্থীরা থাকে সেসব বাসার একটা তালিকা আমাকে দেন। তাহলে আমদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহজ হবে এবং নীবন শিক্ষার্থীরা যখন আসবে তখন যারা হলে থাকবে না তাদেরকে আপনাদের মেসে থাকার জন্য আমরা পরামর্শ দিব। পরিশেষে আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আজ যারা উপস্থিত হয়েছেন, আমাদের দাবিগুলো শুনেছেন এবং আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য