কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজীর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কটিয়াদী পৌরসভার তেলিচারা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত শাহজাহান সিরাজী বর্তমানে কটিয়াদী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শাহজাহান সিরাজী জানান,নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে কটিয়াদী সদরের দিকে আসছিলেন। পথে তেলিচারা এলাকায় পৌঁছালে একদল সশস্ত্র যুবক তার গতিরোধ করে অতর্কিতে হামলা চালায়।
আহত বিএনপি নেতা শাহজাহান সিরাজী অভিযোগ করে বলেন, "কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাদল তার ভাগিনা ছাত্রলীগ নেতা এমদাদুল হক রাতুল, নাসিম, হাবিবুর রহমান সন্দেশ ও আল-আমিনসহ আরও ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালায়।"
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহজাহান সিরাজীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কটিয়াদী সরকারি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আনিসুজ্জামান জানান, "তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাথায় গুরুতর জখম থাকায় তাকে বর্তমানে ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেতে কিছুটা সময় লাগবে।"
এদিকে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাদল বলেন, "আমি এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না। ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন আমি কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় উপস্থিত ছিলাম। উপজেলা পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই আমার উপস্থিতির সত্যতা পাওয়া যাবে।"
দলীয় কোন্দল বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই হামলা হয়েছে কি না—তা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দলের স্থানীয় সিনিয়র নেতারা ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কটিয়াদী থানা সূত্রে জানা গেছে, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।