বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। ফিফা ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশনে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই argentinaout.com নামের একটি ওয়েবসাইটে চালু হওয়া ওই পিটিশনে বলা হয়, ফিফা ও ম্যাচ কর্মকর্তারা আর্জেন্টিনাকে অন্যায্য সুবিধা দিচ্ছেন। পিটিশনকারীদের দাবি, প্রতিযোগিতার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া উচিত। তবে পিটিশনে উল্লেখিত স্বাক্ষরের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের পর। ওই ম্যাচে ভিএআর পর্যালোচনায় মিশরের একটি গোল বাতিল হয়। এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মিশরের খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালাহ ফাউলের শিকার হলেও রেফারি সেটিকে আমলে নেননি বলে অভিযোগ ওঠে।
ম্যাচ শেষে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, ফিফা যেকোনো মূল্যে লিওনেল মেসির দলকে টুর্নামেন্টে এগিয়ে নিতে চায়। একই অভিযোগ তুলে অনলাইন পিটিশনেও বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতিত্বের কারণে প্রতিযোগিতার সমতা নষ্ট হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেমিফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আধুনিক ফুটবলে ভিএআর প্রযুক্তির উপস্থিতিতে কোনো দলকে ইচ্ছাকৃতভাবে সুবিধা দেওয়া বা ম্যাচ প্রভাবিত করা প্রায় অসম্ভব।
স্কালোনি আরও বলেন, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তাই এমন সমালোচনা তাদের কাছে নতুন নয়; বরং এসব মন্তব্য খেলোয়াড়দের আরও ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করে।