অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। তবে রান তাড়ার শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফিরে যান ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।
শুরুতে উইকেট হারালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। দুজনই ৪২ রান করে আউট হন।
এরপর উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস ২১ রান করে ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, তিনি করেন ১৫ রান।
তবে শেষ দিকে তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দুর্দান্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। ষষ্ঠ উইকেটে ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তারা। মিরাজ ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করেন। অধিনায়ক ২২ রানে অপরাজিত থাকেন, আর তাওহিদ হৃদয় খেলেন ৪০ রানের মূল্যবান অপরাজিত ইনিংস।
৩৬ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ, যা নিশ্চিত করে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়।
এর আগে ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররাই জয়ের ভিত্তি তৈরি করে দেন। মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা বোলিংয়ে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। সফরকারীদের শুরুর বিপর্যয়ের পর মারনাস লাবুশানে ও জাভিয়ার বার্টলেট সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন।
বার্টলেট ৫২ রান করেন এবং লাবুশানে অপরাজিত থাকেন ৫৫ রানে। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মুস্তাফিজুর রহমান।
এর আগে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও ৮৬ রানের বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের সিরিজ ইতোমধ্যেই নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।
আগামী ১৪ জুন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।