জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, একই সঙ্গে দুই দায়িত্ব পালন করার নজির রয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এটি আরও সহজ।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কি এই দায়িত্ব ছেড়ে দেব? প্রশ্নটা কি সেটাই? এত তাড়াহুড়া করবেন না। এর নজির আছে।’
এ সময় তিনি বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী-এর উদাহরণ তুলে ধরেন। খলিলুর রহমান বলেন, ‘হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সাহেব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তার একান্ত সচিব ছিলাম এবং তার সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি দুই পদেই পূর্ণকালীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন। তখন ছিল ইন্টারনেট-পূর্ব যুগ। কিন্তু এখন প্রযুক্তির কল্যাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে দুটি দায়িত্বই একসঙ্গে পালন করা সম্ভব। এটি এখন খুবই স্বাভাবিক বিষয়।’
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়াকে তিনি বাংলাদেশের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সাফল্যের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়। এই বিজয় প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যদি দৃঢ়ভাবে আমাদের সমর্থন না করতেন, তাহলে ১০ বছরের পথচলা ১০ সপ্তাহে অতিক্রম করা সম্ভব হতো না। আমরা এই বিজয় বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করছি।’
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস-কে ৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে এক বছরের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান।