প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লাল টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ সময় তাদের কাছ থেকে আট কেজি চোরাই তামার তার উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন সংযোগের তার চুরির একটি স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়েরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে।
ঘটনার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেন যে, গত ২২ মে তিনি সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে লাল টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরি করেন। পরে গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে অবস্থিত একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একুশে হল এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেখানো মতে চকবাজার থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোসনি দালান রোডে অবস্থিত একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে সিটিটিসির ধারণা, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বৃহত্তর চক্রের সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।