নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঘরের মেঝে মাটিতে চাপা দেওয়া মারুফা বেওয়া নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। গত বুধবার রাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়ভিটা মধ্যপাড়া গ্রাম থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত মারুফা ওই গ্রামের মৃত্যু আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে লাভিন হোসেন অজ্ঞাত আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ হত্যা কান্ডের মূল হোতা হিসেবে সন্দেহের তীর নিহতের বড় ছেলে আজহারুল আনোয়ার ওরফে জুয়েল (৪৫)এর দিকে এমন অভিযোগ ছোট ছেলে লাভিনসহ তার স্বজনদের। ঘটনার পর জুয়েল গা ঢাকা দেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ঢল নামে এবং ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। নিহতের ছোট ছেলে লাভিন বলেন, আমার বড় ভাই জুয়েল দীর্ঘ দিন ধরে জুয়া খেলায় আসক্ত। এ নিয়ে আমার মায়ের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো।
আমি চট্টগ্রামে থাকি। ঈদ করার জন্য বাড়িতে আসি। ঈদের বাজারে আমার মা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার ছাগল বিক্রি করেন। রোববার সকালে আমার মা ও ভাই জুয়েলকে বাড়িতে রেখে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জলঢাকায় শশুর বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাই। বুধবার দুপুরে বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি শুরু করি। এসময় বড়ভাইকেও পাওয়া য়ায়নি। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মায়ের শয্যা ঘরের খাটের উপর তোষকে রক্ত দেখার পাশাপাশি বিছানার চাদর,বালিশও ছিলনা।
অপরদিকে পরিত্যক্ত টিন সেড ঘরের মেঝেতে লেপ্টে দেওয়া কাঁচা মাটির মাঝে ফাটল চোখে পড়ে। সবমিলে সন্দেহ হলে থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করি। পরে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে এসে মাটি নিচে চাপা মরদেহ উদ্ধার করেন।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বড় ভাই মায়ের কাছে ছাগল বিক্রির টাকা চাইলে তা অস্বীকৃতি জানালে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)লুৎফর রহমান বলেন, বুধবার রাতে ঘরের মেঝের মাটি নিচে চাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে।এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে লাভিন হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার তৎপরতা অব্যাহত আছে।জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারলে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হবে।