আবাসন সমস্যা সমাধান হলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি ও পুষ্টিসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর তীরঘেঁষে অবস্থিত চর মানিকহার গুচ্ছ গ্রাম (আশ্রয়ণ প্রকল্প) এর শিশুরা। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেলেও সেখানে ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছে স্থানীয় পরিবারগুলো।
গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে অবস্থিত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সম্প্রতি যায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি দল। গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে বিভাগের শিক্ষক নোমান স্যারের নেতৃত্বে তারা সেখানে গিয়ে স্থানীয় শিশু ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপে উঠে আসে, অধিকাংশ পরিবার আবাসন সুবিধা পাওয়ায় সন্তুষ্ট হলেও জীবনের অন্যান্য মৌলিক চাহিদা এখনও পূরণ হয়নি। বিশেষ করে শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপদ পানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক সংকট রয়েছে।
১৩ বছর বয়সী লামিয়া নামে এক শিশু জানায়, আশ্রয়ণে থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি শুরুতে কার্যকর থাকলেও বর্তমানে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে সে জানায়।
অন্যদিকে ফারদিন নামের এক শিশুর মা জানান, ঘর পাওয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প তাদের আবাসন সংকট দূর করলেও জীবিকা অনিশ্চয়তার কারণে পরিবারগুলো এখনও দারিদ্র্যসীমার মধ্যে বসবাস করছে। নিয়মিত কাজ না থাকলে অনেক সময় পরিবারগুলো তিনবেলা খাবারও জোগাড় করতে পারে না। শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশ্রয়ণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি টিউবওয়েল থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ল্যাট্রিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের অভাবে রাতে আলো না থাকায় শিশুরা নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, প্রথম দিকে সরকারি সুবিধা তুলনামূলকভাবে ভালো থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো কমে গেছে। ফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি এখন শুধু আবাসনের নিশ্চয়তা দিলেও মানবিক জীবনমান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আশ্রয়ণ প্রকল্পকে সত্যিকারের কল্যাণমূলক উদ্যোগে রূপান্তর করা যায়।